Saturday, February 28, 2026

সূর্য গ্রহণ

শহরের বুকে এক শুরু গলি, মানুষের আনাগোনা -

চলে, তবে বড় গাড়ি ঘোড়া তাতে ঢুকতে পারে না।

পায়রা ও মানুষের বক-বকুম চলছে সারাক্ষণ।

নিম্নমধ্যবর্গীয় শ্রেণীর মানুষের সুখের সংসার।

বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানে রসগোল্লা, সন্দেশ, লাড্ডু,

সেমাই-এর প্রচলন আছে। মিষ্টি প্রেমিক মানুষেরা -

বিভেদ করতে জানে না, ঠিক যেমন অন্তরে প্রকৃত -

ভালোবাসা থাকলে মানুষেরও বিভেদ করা কঠিন।


ইদানিংকালে, অনেকেই সরব হয়েছেন পটকাবাজি -

ব্যবহারে পরিবেশ দূষণের বার্তা নিয়ে। একবার -

অন্তত বছরে এই নিয়ে হইচই ওঠে টিভি বা নানান -

সামাজিক মাধ্যমে। অনেকের কাছে এরা আজ -

‘আরবান ন্যাক্সাল’ বলে পরিচিত। অনন্য শ্রেণী!

প্রাচুর্যের মাঝে, এসি ঘরে বসে, বছরের একটা -

নির্দিষ্ট পরব ও শ্রেণীকে এখানে নিশানা করা হয়।

তারা জ্ঞাত যে, বিমুখে কেউ স্বোচ্চার হবে না!

সংখ্যাগরিষ্ঠদের দুর্বলতার মুখে এটা এক থাপ্পড়!


এক পূর্ণিমার লগ্নে, তীব্র বর্ষণের দুপুরে শোনা গেল -

এক প্রচন্ড বিস্ফোরণ, আকাশচুম্বী জ্বলন্ত শিক্ষা।

বৃষ্টির শীতল পরিবেশ গ্রাস হলো বারুদের উত্তাপে।

এক জীর্ণ ইমারতের, একটি ঘরে পাওয়া গেল -

ছিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ; অতিবিকৃত দেহগুলি লাশ বলে -

আখ্যা দেওয়ার অবস্থায় ছিল না। শহরের ফুসফুস -

তখন ঘৃণার দূষণে ভরে গেছে, তবে উচ্চস্বরে -

কোন প্রতিবাদী আওয়াজ উঠলো না; ভয় এটাই -

যে কিছু বিজ্ঞাপনের অর্থ কমে যাবে। টিভিতে -

শোনা গেল, 'তদন্ত চলছে'; এটাই অনেক পাওনা! 


অরাজকতার দানবীয় আগুনে, বিশ্বাস পুড়ে ছাই,

বিশ্বাসঘাতকতার পচা গন্ধ, অন্ধকার ভবিষ্যতের -

চাপ চাপ কালো ধোঁয়া তখনও ছড়িয়ে চারিপাশে।

প্রতিবাদের তীর রাজনীতির হাওয়াতে মুখ ঘোরালো!


প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

No comments:

Post a Comment