হাসপাতাল চত্বরের, ঈশান কোণে এক বন্ধ ঘর,
অনেকটা বড়, কিন্তু তাতে তেমন কোলাহল নেই -
যেমন বাকি প্রতিটি ঘর ও অফিস রুমে হয়ে থাকে।
ঘরের মধ্যে এক শান্ত অস্থিরতা, মৃত্যুর নিজের -
হাতের শীতল স্পর্শ, নিষ্ঠুরতায় সব কিছু জড়িয়ে।
এই বিষণ্ণ স্থানে, যেখানে জীবন চুম্বন করেছে -
প্রেয়সী মরণের হিমেল ঠোঁট, গলায় পড়েছে -
হতাশার ভারী শেকলের মালা, যা বহন করে -
এক নীরব যন্ত্রণা, বিদীর্ণ হৃদয়। প্রতিটি সাদা -
চাদর এক অনন্য গল্পের বাহক; জীবন মৃত্যুর,
এক তিক্ত ঠান্ডা প্রেমের মেলবন্ধন।
কত কান্না দেখেছে এই করিডোর,
উত্তর পায়নি কেউ, পাবেও না কখনো।
নাম হারিয়ে যায়, এই ঠান্ডা ড্রয়ারে চির নিদ্রার -
অধিকারী হলে। এক ক্রমিক সংখ্যা, প্লাস্টিকের -
ট্যাগ হয়ে ওঠে ক্ষনিকের পরিচিতি।
সারা জীবনের বহন করা নাম, এক সংখ্যা মাত্র!
এই নীরবতার রাজ্যে, সব প্রজার এখানে সমান -
গণতান্ত্রিক অধিকার। জীবনকালে না হোক, তবে -
অপঘাতে মৃত্যু কিছুটা সময়ের জন্যে, সব নিথর -
বিকৃত দেহগুলির সাথে, অবিচার হতে দেয় না।
সব লাশগুলো কেটে, ধুয়ে, মুছে নিয়ে সেলাই -
করা হয় একই নিপুণতার সাথে।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment