Monday, March 30, 2026

বিচিত্র মেরুদন্ড

কি বিচিত্র এই সমাজ, হারিয়েছে লজ্জা লাজ।

চির পুরাতন এই ব্যবসা, মানুষের বিবেক ঝাপসা।

পুরুষতন্ত্রের এক ডিক্রি, নারী চলছে করা বিক্রি।

নেই কিছুই যুক্তিতে, ক্রয় বিনিময় মুখের চুক্তিতে।


আছে বারো হাত শাড়ি, তবু অসহায় আজ নারী।

পূজিত নারী নানান রূপে, হয় বিক্রি নীতির বিদ্রূপে।

আছে তাদেরও গৃহে কন্যা, যারা বইয়েছে অশ্রু বন্যা।

কুড়িয়েছে অভিশাপ ছিল যত, কুৎসিত চরিত্র অবিনত।


কি বিচিত্র এই দেশ, চলছে সবাই গন্তব্যের দিকে বেশ।

চিরতরে নয় কোনো রাজ্য, কত বেহিসেবি নিয়ম ধার্য্য। 

আজ যা যুদ্ধে হলো খরচা, হবে শুধু দু'দিনের মাত্র চর্চা।

নিয়ম - নীতি - ন্যায় - মূল্য, এই জমানায় সবই ঠাট্টাতুল্য।


কি হবে করে প্রতিবাদ, যখন চারিপাশে চাপা আর্তনাদ?

বিচার পায়নি নিষ্পাপ যত, অন্যায়ের পাল্লা'র ভারী তত।

অগুনতি মুখ করা হয়েছে বন্ধ, রক্ষকের শ্বাসে পচা গন্ধ। 

করুন কান্না স্মশানে কবরে, অতৃপ্ত আত্মারা পাপের শহরে।


আছে মেরুদন্ড তবে ব্যবহার নেই, সীতা রয় বন্দি লঙ্কাতেই।

হয় বোবা বিচারের সুর, দ্রৌপদীর পরিচয় আজো হস্তিনাপুর। 

দুর্বলের বিচারের স্বল্প আশা, লেখনে তাই ওদেরই ভাষা। 

সোচ্চার প্রতিবাদ উঠবে যবে, লেখন সেদিনই সার্থক হবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Sunday, March 29, 2026

মনের জ্বর

জ্বর হয়েছে, এক ভিন্ন প্রকারের এই জ্বর,

তাপজন্ত্রে দেয় না ধরা, হয় ক্রমশ প্রখর।

অন্ধকার মনের কোণে, ব্যথা রয়ে শত শত।

স্মৃতির আঙিনায়, ওরা উকি দেয় অবিরত।

অনুপম ইচ্ছেগুলো, একক গন্ডি দিয়ে ঘেরা -

অভিলাষায় গ্রহণ লেগে, আলোয় হয়নি ফেরা।


জ্বর বেড়েছে, একটু গাঢ় কিন্তু খুব নগণ্য,

অন্তরে জ্বালা, বাইরে শীতল আবেশ অনন্য।

বাস্তবের স্বাদ কখনও, পায়নি যেই স্বপ্নগুলো।

ছায়ার মতন সীথিয়ে, হারিয়েছে নিজের আলো।

ধুলো, জালে, জঞ্জালে জড়িয়ে কিছু ভাবনা -

বহুকাল হয়েছে মনে, ‘এমনি পরে থাক না’।


জ্বর রয়েছে, এক পাথুরে পরৎ দাঁড়িয়ে মধ্যে,

নীতি আর বাস্তবতার অতুলনীয় চলমান যুদ্ধে।

পুড়েছে স্বপ্নগুচ্ছ ধিকিধিকি, অশ্রু সিন্ধুর পাশে।

কষ্টের অগ্নিকুণ্ড, আঁখির ধারা নেভায় অবশেষে।

সাময়িক এই তীব্রতা তো, এমনি ভাবেই কমবে -

জ্বলবে কুণ্ড পুনরায়, যখন ভাবনাগুলো জমবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


অকারণে

ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে ট্রেন থেকে গন্তব্যের পূর্বে -

নেমে পড়ি কোনো অচিন স্থানে যেখানে আমার -

হয়তো সারা জীবনে পা রাখার কথা ছিল না। 

সবাই নিজের জীবন যাত্রায় রবে ধাবমান, কেউই -

আমার প্রতি কৌতূহলী নজর নিক্ষেপ করবে না!

থাকবো সর্বজনের আগ্রহের বৃত্তের পরিধির বাইরে।


ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে কোনো আগন্তুকের নিকটে -

এগিয়ে জিজ্ঞেস করি, ওনার পরিবার কেমন আছে।

কি করেন তিনি তার পরিবার ও কুয়াশা সম স্বপ্নকে -

বাঁচিয়ে রাখার জন্যে। মনে হয়, তাকে বলি, একটু -

বসুন, একদিন সংগ্রাম না করলে খুব একটা তফাৎ -

সাধারণ প্রাণীদের জীবনে আসে না; কাল না হয় -

দ্বিগুন উদ্দমে লড়াই শুরু করা যাবে!


ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে রোজকার সংগ্রামের -

দুটি বিন্দু'র সংযোগকারী রেখা'র মাঝে হারাই।

কিছু অবাস্তব, অপ্রয়োজনীয়, অপাংতেয় -

ব্যাপারগুলো কে প্রাধান্য দিলে কেমন হবে -

এই নিরাশ জীবনে সেটা দেখার খুব ইচ্ছে। 


জনসমুদ্রের মাঝে থেকেও কারোর কৌতূহলের -

জল বিন্দু পারবে না আমার মন কে সিক্ত করতে।

সেই শুষ্ক মনের মালিকানা নিয়ে হেটে চলবো -

খরা’র সম চিড় ধরা, ধুলো মাখা পথে - একাকী!



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Thursday, March 26, 2026

অচেনা

ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে ট্রেন থেকে গন্তব্যের পূর্বে -

নেমে পড়ি, এক অচিন স্থানে যেখানে আমার -

হয়তো সারা জীবনে পা রাখার কথা নয়। 

সবাই নিজের জীবন যাত্রায় রবে ধাবমান, কেউই -

আমার দিকে কৌতূহলী নজর নিক্ষেপ করবে না!

থাকবো সর্বজনের আগ্রহের বৃত্তের পরিধির বাইরে।


ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে কোনো আগন্তুকের নিকটে -

এগিয়ে জিজ্ঞেস করি, ওনার পরিবার কেমন আছে।

কি করেন তিনি তার পরিবার ও কুয়াশা সম স্বপ্নকে -

বাঁচিয়ে রাখার জন্যে। মনে হয়, তাকে বলি, একটু -

বসুন, একদিন সংগ্রাম না করলে খুব একটা তফাৎ -

সাধারণ প্রাণীদের জীবনে আসে না; কাল না হয় -

দ্বিগুন উদ্দমে লড়াই শুরু করা যাবে!


ইচ্ছে করে মাঝে মধ্যে রোজকার সংগ্রামের -

দুটি বিন্দু'র সংযোগকারী রেখা'র মাঝে হারাই।

কিছু অবাস্তব, অপ্রয়োজনীয়, অপাংতেয় -

ব্যাপারগুলো কে প্রাধান্য দিলে কেমন হবে -

এই নিরাশ জীবনে সেটা দেখার খুব ইচ্ছে। 


জনসমুদ্রের মাঝে থেকেও কারোর কৌতূহলের -

জল বিন্দু পারবে না আমার মন কে সিক্ত করতে।

সেই শুষ্ক মনের মালিকানা নিয়ে হেটে চলবো -

খরার সম চির ধরা, ধুলো মাখা পথে - একাকী!



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


মানায় না

ভিড়ের মাঝে আমায় দেখে চুপ থাকো, সেটা বুঝি,

তবে না দেখার অভিনয় করা, তোমাকে মানায় না। 

হিমেল হাওয়ায় দেহে জেগেছে শিহরণ, সেটা বুঝি -

তবে আমার পাশে এসে না বসা, তোমাকে মানায় না।


কিছুদিন হলো তোমার অভিমানী মন, সেটা বুঝি,

তবে রাগ ভাঙ্গাতে না দেওয়া, তোমাকে মানায় না।

আমার জ্বরে তোমার মন হয় অশান্ত, সেটা বুঝি -

তবে সরাসরি খবর না নেওয়া, তোমাকে মানায় না। 


পছন্দের কানের দুল উপহার পাওনি, সেটা জানি,

তবে পায়ের পায়েল প্রত্যাখ্যান, তোমাকে মানায় না।

কথা বন্ধ তাও মেসেজগুলো চেক করো, সেটা জানি -

তবে এমনি করে গুমড়ে থাকা, তোমাকে মানায় না। 


ঘুমন্ত অবস্থায় চোখের দেখা দেখে গেছ, সেটা জানি,

তবে আঁখির পলকে স্মৃতির ভার, তোমাকে মানায় না।

দেরাজ থেকে তোমার শাড়িগুলো সরালে, সেটা জানি -

তবে মন থেকে ভোলানোর চেষ্টা, তোমাকে মানায় না।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Wednesday, March 25, 2026

আলাদা চিন্তা

অনেকটা ধৈর্য রেখেছিলাম এতটা পথ চলাতে।

বদলেছি দিক গন্তব্যের, কাছের মানুষ বলাতে।

বলেছে ওটা সঠিক, চলেনি এই পথে যারা নিজে,

অসন্তোষের কালো শিশিরে, মন গিয়েছিল ভিজে।


দীর্ঘ তমসার প্রহরে, ঘুম এড়িয়ে চলছে এই বাসাতে,

শুধু পায়চারি করে স্বপ্নগুলো, স্থায়ী ঘরের আশাতে।

এমন নয় সে চেয়েছিল, ভালোবাসায় বেঁধে রাখতে,

আমিই ছিলাম যে চেয়েছে, এই কারাগারে থাকতে।


হাতের রেখাগুলোর, কি দোষ দেওয়া যেতে পারে -

মানুষই যখন বদলে যাচ্ছে, নিজ সময়ের ধারে?

জীবনের ক্যানভাসে রঙ করেছি গণ্ডির বাইরে,

অজান্তেই কিছু রঙ ছিটে পড়েছে মম অন্তরে।


কঠোর ঝড়ো বৃষ্টি, চোখের জল লুকোতে পারেনি,

জানবে কি করে, যারা এই বৃষ্টিতে এখনো ভেজেনি।

জীবনে’র শ্মশানে ছড়ানো বহু স্মৃতির উত্তপ্ত ছাই,

ছেড়েছে অসময়ে যারা, আজ তাদেরই এখানে পাই।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Monday, March 23, 2026

ভাগ্যের লুকোচুরি

চলার পথে, এই চরাচর, এই প্রশস্ত মেলা -

শুরু হোক ছোটবেলার সেই হারানো খেলা।

শোনো ‘জীবন’, একটি কথা বলি অভিসারে -

তুমি খোজো আমায়, আমি খুঁজবো তোমারে।


ভাবছি, ভাগ্যকে খেলায় যুক্ত হতে বলবো -

দল হবে ভারী তখন, একসাথে মোরা চলবো।

খেলার পূর্বেই আমি ভাগ্যকে খুঁজে ধরে আনি -

সারা জীবন এই খেলাতে ও দিয়েছে হাতছানি।


কৈশোরের সেই লুকোচুরি আজও হয়নি শেষ,

লুকিয়ে থাকার খেলা আজও চলছে ভারী বেশ।

জীবন নিজে আড়াল করে আমায় বলেছে 'টুকি',

ফিরে দেখি ভাগ্য নেই যখন পেছনে দিয়েছি উঁকি। 


আজো অজস্র আশীর্বাদ আমার সাথে চলছে,

পথটি করে আলো, ওরা মিটিমিটি সব জ্বলছে।

জীবন সূর্য করে যখন শেষ পশ্চিমা মুখী যাত্রা,

ভাগ্যের ছায়া বেড়ে ওঠে পূর্বের ন্যায় বহু মাত্রা। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Sunday, March 22, 2026

পরিবর্তন

জীবনে চলার পথে, বেশ কিছু খামতি রয়ে গেল।

ছলনা, কপটতা কোনো ভাবেই আয়ত্তে এলো না।

ছোটবেলায় বেবাক ছিল জীবনশৈলী, যখন মর্জি -

হেসে ফেলতাম আর কখনও চোখ ভিজে যেতো।

আজকাল সভ্য সমাজে হাসিতে লাগাম লেগেছে -

আর চোখের জল একাকিত্ব খুঁজে বেড়ায়।


বাঁধন ছাড়া জীবন, উড়ো মেঘের মতনই হঠাৎ -

একত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঝরে পড়বে তা জানা -

থাকলেও জীবন তার জন্যে আংশিক ও তৈরি নয়।

নিজের হাসি ভুলে যেতে কিছু দশক পার করতে -

হয়েছে; সেই একই সময়কালে শিখেছি নিজেকে -

মৌনতায় পারদর্শী করতে।


নিজে গুটিয়ে নিয়েছি এক অলস শামুকের সম।

এতটাই হয়েছি নিপুণ যে সমাজের ছুড়ে দেওয়া -

নোনা মন্তব্য আমাকে আর বিচলিত করে না।

বলা বাহুল্য, শামুক আমায় দেখে ঈর্ষান্বিত বটে!


বহু বছর কাটিয়ে, একদিন স্মৃতির দেরাজ খুলে -

অতীতের ছবিগুলো দেখলাম। ছবিতে নিজেকে -

হাসতে দেখে মনে হলো ছোটবেলার বন্ধুদের -

সাথে পুনরায় দেখা; নিজের অতীতের সাথে মন -

খুলে কথোপকথন এক অসীম তৃপ্তি প্রদান করে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


চমৎকার জীবন

এই হাতের তালুর রেখাগুলো সত্যি খুব চমৎকার -

আছে মুঠোয় বন্দি কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই! 

জীবনের পুঁথি অন্য মনে, কখনো নেই খুলে রাখতে,

কে জানে অসময়ের হাওয়া কোন পৃষ্ঠা উল্টে দেয়!


জৈব শরীরের উপজ এই মন সত্যি খুব চমৎকার -

আছে দেহে বন্দি কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই!

চুপ থাকতে শিখেছি, তাই সম্পর্ক রাখা সম্ভব ছিল,

কে জানে মুখে জবাব এলে কতটা একা হতাম!


প্রত্যাশায় মানুষের স্বভাব সত্যি খুব চমৎকার -

আছে পাখনা মেলে কিন্তু হাওয়া নিয়ন্ত্রণে নেই!

হাজারো উত্তরের চেয়ে, আমার নীরবতাই শ্রেয়,

কে জানে কত প্রশ্নের আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছি! 


মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ধরন সত্যি খুব চমৎকার -

আছে অভিসারী মানসিকতা কিন্তু মুখ নিয়ন্ত্রণে নেই!

আমি মানুষটা খারাপ নই, তাও সমাজ খারাপ ভাবে,

কে জানে সত্যি খারাপ হলে এদের কি হতো!



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


চৈত্রে এলে তুমি - submitted

চৈত্রে এলে তুমি হয়ে ফাল্গুনের ঝোড়ো হাওয়া।

এলে কি তুমি করতে উজাড় সব চাওয়া পাওয়া?

অকালে যে মুকুল গিয়েছে তোমার প্রতীক্ষায় ঝরে,

হবে কি সে বসন্তের মালা তোমায় জড়িয়ে ধরে?


চৈত্রে এলে তুমি ফাল্গুনের বহুল সুবাস নিয়ে।

এলে কি তুমি মনটি নিতে নিজের সবটি দিয়ে?

অকালে যে কলি হারালো গৃহ তোমার তরে,

পাবে কি সে স্থান তোমার গাঁথা মালায় চিরতরে? 


চৈত্রে এলে তুমি ফাল্গুনের বার্তা নিয়ে সাথে।

এলে কি তুমি দেখতে কি বাকি এই খালি হাতে?

অকালে যে মনের পল্লব শ্যামলের আহুতি করে,

জানে কি সে এসেছিলে তুমি দেখতে চুপিসারে? 


আসন্ন চৈত্রে এসো তুমি ফাল্গুনের রঙে সেজে।

অতীতগামী চলবো আমরা গত বসন্তের খোঁজে।

সকালে শীতের শিউলি শেষ চিহ্ন রেখে যাবে,

প্রতি বসন্তের ঘ্রাণে তুমি আমায় খুঁজে পাবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Saturday, March 21, 2026

ভিন্ন পৃথিবী

নিতান্ত স্বার্থপর এই পৃথিবী, তাই অনেকের -

সাথে দেখা করা এখন ছেড়ে দিয়েছি, নইলে -

এই একক ছোট জীবন একাকিত্বের তো নয়।

একে অপরকে না ছুঁয়েও নিজের জীবনের -

পরিধি হয়ে চলছে ভয়ানক প্রকার সংকুচিত। 


নিতান্ত আশ্চর্যের এই পৃথিবী, তাই অনেকের -

কাছে অভিযোগ করা এখন ছেড়ে দিয়েছি,

নইলে নিজ আত্মমর্যাদার হয়ে চলে অপচয়।  

জীবন গৃহের যেই ঘর অনুভূতি বন্ধ করে -

চলে গেছে, সেই কপাটে অনুযোগ করা বৃথা।


নিতান্ত দ্বিচারিতার এই পৃথিবী, তাই অনেকের -

কাছে মনুষত্ব আশা করা এখন ছেড়ে দিয়েছি,

নইলে শিক্ষা দীক্ষা হতো মানুষের একক পরিচয়।

শিক্ষিত আমলা কুশিক্ষিত রাজনীতিবিদদের দ্বারা -

চালনা হতেন না, বিদ্রুপের এই সমাজ ব্যবস্থা।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


জীবনে বিভাজন

জীবনের রমণীয় বিভাজনে দাঁড়িয়ে আছি -

গালটা মসৃণ তবে কপালে ভাজ পড়েছে।

স্বভাব রয়েছে নিজের অগ্নিরূপের কাছাকাছি,

তবে বয়সের ভারে বুদ্ধিমত্তার কালি চড়েছে।


অভিধানের পাতা ওল্টাতে খুবই বিরক্ত লাগে -

কিন্তু অনলাইনে গুগল সার্চ সহজ মনে হয়।

রেশনের লাইনে দাঁড়াতে এক বিতৃষ্ণা জাগে,

তবে ওয়েবসাইটে টিকিট কাটা যেন যুদ্ধ জয়।


জীবনের রমণীয় বিভাজনে দাঁড়িয়ে আছি -

আমি কাউকে কাকু বলি, কেউ আমায় বলে।

ক্ষমতা ও অক্ষমতার এখন চূড়ায় রয়েছি,

এখন থেকে জীবন যাবে ঢালানে গড়িয়ে চলে।


তর্ক বিতর্কে হার জিত স্থান পায় না মগজে -

তবে বাজারে দর কষাকষি সরল আনন্দ মেলে।

মানুষ মিথ্যে বললে তা ধরে ফেলি খুব সহজে, 

ওরা নিজেদেরই মুখোশ অজান্তে খুলে ফেলে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬