Sunday, April 26, 2026

সীমিত সময়ের সীমানা

জীবনের প্রথম কিছু বছর পার হয়ে অজান্তে,

তারপরেও আরো দু’দশক লাগে মানুষ চিনতে।

যদিও, এই প্রক্রিয়াটা জীবনভর চলতে থাকে,

কিছু বিশ্বাস বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে যায় সময়ের ফাঁকে।


মনে হয় প্রতি ধাপে হয়তো অতীতটা ছিল ভালো,

আগামী দিন উজ্জ্বল জেনেও কখনো লাগে কালো।

সীমিত সময়ের সীমানায় সবার গণ্ডি আঁকা আছে,

পাশে থেকে কথা নেই, দূরে থেকেও কেউ রয় কাছে।


জীবনের প্রাণকেন্দ্র থেকে বহু দূরে যেতে মন চায়,

সময়ের সীমানায় গিয়ে বসবো, এমনি যেন হয়।

জীবনের ঘূর্নিপাক দেখব শুধু একপাশে দাঁড়িয়ে,

ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষার ঢেউয়ের উর্দ্ধে যাবো ছাড়িয়ে।


জানি এই পরিধি প্রতিক্ষণ সংকুচিত হয়ে চলছে,

অতীতের ধোঁয়া বলে, এখনও কিছু স্মৃতি জ্বলছে। 

জীবনবৃত্ত একদিন, কেন্দ্রে মিলে উধাও হয়ে যাবে,

জানবে, অধরা কিছু স্বপ্ন আমার এমনি পরে রবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


দীর্ঘ বছর পর

দীর্ঘ বছর পর এলে, আমার এমনি মনে হয়,

একসাথে সব ইচ্ছে পূরণ, লাগে যে একটু ভয়।

যেই চৌকাঠ দিন গুনেছে, তুমি আজ করলে পার,

উলুধ্বনি দিলো ভাগ্য, মনে শান্তি এলো প্রথমবার।


দীর্ঘ বছর পর এলে, কি ভাবছো একটু বলো,

তোমারও একই শিহরণ, বিধির বিধান লেখা হলো।

রাস্তা বিহীন মরুতে আমি চলেছি একাকী বহুকাল,

মরুদ্যানের আগে পায়নি দেখা, এমনি ছিল হাল।


দীর্ঘ বছর পর এলে, বন্ধ ঠোঁট, চোখের ভাষা অন্য,

তোমারও যে একই ইচ্ছে, সব উজাড় করার জন্য।

ঘূর্ণি পথ চলেছি পাহাড়ে, চূড়ার পায়নি যে দেখা,

অনেক কাল পরে মিলন, এমনি ভাগ্যে ছিল লেখা।


দীর্ঘ বছর পর এলে, এমন ভাবনা কেন মনে আসে,

তোমার ছোঁয়াতে এমন যেন, চিরকাল ছিল পাশে।

চলার পথে মন বলেছে, আমি এমনি চলে যাবো,

কালচক্রে নির্দিষ্ট ক্ষণে আমি তার দেখা পাবো।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Friday, April 24, 2026

অপেক্ষা

অপেক্ষায় থাকার অপেক্ষা অনেকের হয় জীবনে।

অপেক্ষারত অসহিষ্ণুতার আনন্দ জানে শুধু গাছ,

যে করেছে বসন্তের প্রথম ফুলের অপেক্ষা, নিজ -

ডালে ঝড়া পাতার মরসুম পার করে এসে।


প্রথম কুঁড়ি ফুটে ওঠার অপেক্ষা, মন কে দেয় -

শূন্য থেকে সৃষ্টি হওয়ার, এক অনন্য অনুভূতি।

বর্ষার পূর্বে, নীল আকাশের তপ্ততায় ঝলসানো -

শ্যামল পাতার উদগ্রীব হওয়া প্রথম জলবিন্দুর -

স্পর্শ, এনে দেয় এক অদ্বিতীয় মাধুরী।


প্রেমপত্র লিখনে প্রতিটি শব্দের অপেক্ষা থাকে -

তার পরবর্তী প্রতিবেশী শব্দের। শব্দের চেয়ে -

থাকা সময়ের দিকে, পুরো বাক্য শেষ করার।

একটি পূর্ণ চিঠি, লেখা শেষ করলেই হয় তা নয়।

সে শিখরে পায় স্থান, যখন এসে পৌঁছোয় উত্তর!


অপেক্ষার মিষ্ট যন্ত্রণা জানে, কৈশোরের ভেলায় -

ভেসে বেড়ানো প্রেম কাতর কোন ছেলে-মেয়ে।

দেখা হওয়ার থেকে বেশি রোমাঞ্চকর, সেই মনের -

মানুষের জন্য উদগ্রীব হয়ে শূন্য আকাশ দেখা।

ভালোবাসার ভেসে বেড়ানো মেঘ একত্রে এলে, 

হয় দীর্ঘ ছটফটে মনের অপেক্ষার অবসান।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


জানলো না

জানলো না কখনও রাত, ভোরের আলোর আমেজ।

প্রতিটি তোমোসিনী রাত্রি নিজ সম্ভার তুলে দেয় -

আগামী অপেক্ষারত ভোরের আলোর কাছে।

চেয়েও সে দেখতে পায় না, কেমন করে রোজ -

সকালের আরমোড়া ভেঙে পৃথিবী বক্ষে প্রথম -

আলো নিজ রূপের করে অপার বর্ণনা।


জানলো না কখনও ভোর, রাতের নিস্তব্ধতার -

মাধুরী। নিকটে বসে থেকে, বন্ধ আঁখি প্রেয়সী’র -

অমলিন মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যকে নিজের মধ্যে,

এক ভালোলাগার আমেজে বৃদ্ধি পেতে দেওয়ার -

এই অনুভূতি থেকে ভোর রয়েছে চির বঞ্ছিত।

জীবনে আলো ছায়ার সহবাসের এটাই বিড়ম্বনা।


জানলো না কখনও গাছের ছাল, বৃক্ষের নরম -

অন্তরে ধাবিত হওয়া চঞ্চল প্রাণসঞ্চারের কাহিনী।

আজ যে অপাংক্তেয়, বহিরাগত, সেও ছিল এক -

সময়ে বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রাণবন্ত জীবন শৈলীর -

কেন্দ্র বিন্দু। শিশুর বার্ধক্যের পথে বেড়ে ওঠার -

গল্প যেমন সে নিজে মনে রাখতে পারে না, ঠিক -

তেমন পরিণতি বার্ধক্যে পৌঁছে শৈশব ভোলার। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


তুমি কি জানো? - sbmt

তুমি কি জানো, কিভাবে জ্বলছে দাবানল অন্তরে?

না বলা বহু কথার চাপা ধোঁয়া বুকে রয়েছে ভরে।

পারো কি করে অবলীলায় নূপুর পায়ে সুর তুলতে?

ঠোঁটে আসা কথা, হারায় ভাষা, বাধ্য করে ভুলতে।


আমার সব নিজের করে, তুমি চাওনি কোন ভাগ,

যেমন দেহেতে প্রমাণ রয়, কোন এক জন্মের দাগ।

গত পৌষে দুই অচেনা’র, পরিচয়ের মুহূর্ত জাগলো,

শুকনো পাতায় যেন, অপেক্ষারত আগুন লাগলো।


জানো কি কত ভোর, দুপুর, সন্ধ্যা এমনি গেছে চলে?

পার করে এসেছি অনেক সময়, মনের কথাটি না বলে।

জানো কি তুমি, তোমার সুবাস রয়েছে আমার ঘ্রাণে?

আমার জীবনের প্রতি অংশ ভরেছে তোমারই প্রাণে।


জানো কি তুমি, কতটা বিস্তার জীবনের চরাচরে?

যেমন রামধনুর রঙ নীল আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

জানো কি তুমি, কখন নিজের ঠিকানা হারালো মন?

এসেছিলে মৃদু পায়ে সাবলীল বধূ সাজে যখন।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Tuesday, April 21, 2026

সেদিন বৃষ্টি হলো

সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, কিছু মেঘ ছিল মনে,

ঝিরিঝিরি এলো জলবিন্দু, তুমি এলে যেই ক্ষণে।

হালকা ঠান্ডা, শুষ্ক হাওয়া বইছিলো যে চারিধারে,

ভালোবাসার আর্দ্রতায় ভরালে, এসে আমার ঘরে।


অনন্ত পশ্চিম আকাশে, ছিল জমাট মেঘে ভরানো,

দ্বিধায় ফেলেছিল, তোমার খোলা চুলে দাঁড়ানো।

বহুবার আগে এসেছো, ঘুরে গেছ এখান থেকে -

ফিরে যেতে তখন শুধু, একটু চোখের দেখা দেখে।


শিয়রে বন্দি কেশ, তুমি মেলে ধরলে ঝর্ণা ধারায়,

দেখেছ মনের মেঘ, কেমন নিজের মনেতে হারায়?

একগুচ্ছ আকাঙ্ক্ষারা, নিজের মতনই উঠল ফুটে,

ফুলের থেকে সুবাস যেন, মনের ভ্রমর নিলো লুটে।


অসাড় যখন মন, আমি তোমার আঁখির কথা শুনি,

নিষ্পলক চাউনিতে লেখা হাজার কবিতা জানি!

ভাঙতে দেখেছি মেঘ, দেহের জড়তা ভাঙে যেমন,

আকাঙ্ক্ষার উষ্ণ বর্ষা, ইচ্ছের বাঁধন ভাঙে তখন।


অলিখিত বাসনার হ্রাসি, মনের ফুলদানি ভরে দেয়,

বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে, যেন নতুন গল্প লেখা হয়।

তৃপ্ত আকাশ সাক্ষী ছিল নিজ মেঘকে উজাড় করে,

নতুন চলার সূচনা হলো একে অপরের হাতটি ধরে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


তুমি এলে নীরবে

তুমি এলে, মনের ঘরে যেন হাজার জোনাকি এলো

নিশীথ প্রহরে শয়নে স্বপ্ন যেন এক আশা পেলো।

তুমি এলে, মনের বাগানে জুই-এর কলি উঠল ফুটে

চঞ্চল সকাল অলস বিকেল প্রজাপতি এসে জুটে।


তুমি এলে, ভোরের শিউলি ঝরে পড়ার সুখ পেলো

বামুন্ডুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে তোমায় দেখতে এলো।

তুমি এলে, নীরবতায় অভ্যস্ত দেওয়াল উঠল জেগে

আনন্দে মত্ত চঞ্চল সত্তা উড়ছে দেখো অনুরাগে।

 

তুমি এলে, লেখাগুলি মাতালি আনন্দে উঠল মেতে

কবিতার শব্দগুলো তোমায় যে ছেড়ে চায়না যেতে।

তুমি এলে, নীরবে কাছে এসে মনের কড়া নাড়লে

ভাবি কি করে তুমি তালা বন্ধ ঘরে প্রবেশ করলে!


তুমি এলে, একাকিত্বের সুবাস নিল বিদায় চেয়ে

এপারের মনের আশা উঠল জেগে তোমায় পেয়ে।

তুমি এলে, এক হ্রাস ইচ্ছে এলো কল্পনার তীরে

যেমন বসে কোনো মৌমাছি সরল পাপড়ির ধারে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Thursday, April 9, 2026

সময়ের ব্যাংক

কৈশরকালে উদ্ভট ভাবনা মনের অনেকটা স্থান -

জুড়ে ছিল। মানুষ টাকা জমা রাখে ব্যাংকে ভিন্ন -

কারণে। মননে আসতো, যদি সময় গচ্ছিত রেখে -

সময়ের ওপর সুদ পাওয়া যেতো!


জীবনের ভালো সময়ে, যদি অল্প অল্প করে নিজ -

সামর্থ্য বিশেষে, সবার থাকতো সময়ের অ্যাকাউন্ট।

নির্দিষ্ট সুদের হারের কড়াকড়ি হতো অপ্রয়োজনীয়। 

অল্প বয়সের সোনালী মুহূর্তগুলো, যদি কম খরচ -

করে আগাম দিনগুলোতে ব্যায় করার উপায় হতো!


ভালো সময়ের চলাতে, মানুষ এটা খেয়াল করে না,

যে সেই সময়ের আছে নির্দিষ্ট মেয়াদকাল। তবে -

এটাও বিড়ম্বনা যে, খারাপ সময় নিজেই এই -

শর্তাবলীর ঘেরাটোপের বাইরে। জীবনে অর্থ -

প্রাপ্তির একটা সময়সীমা ও পরিমাণ থাকে, কিন্তু -

দারিদ্রতার কোনো সীমা নেই, যেমন দুঃসময়ের!


টাকার মূল্য আর্থিক জগতে ক্ষয় আছে, কিন্তু -

সময় মূল্যবান আর স্বর্ণালী মুহূর্তগুলো অমুল্য। 

শৈশব থেকে কৈশোর অবধি, বাবা মায়ের যেই -

ছায়া’র সুখ মানুষ পায়, তার এক ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ -

ভবিষ্যতের জন্যে, সময়ের ব্যাংকে জমা হতো -

স্থায়ী আমানত হিসেবে। ওই পুঁজি, মাঝ বয়স -

থেকে অন্তিম লগ্ন করা যেতো খরচ।


সুখ প্রাপ্তির সুদের পরিমাণ, ফুলেফেঁপে হতো -

শেষ জীবনে মূলধনের চেয়ে অধিক। বার্ধক্যের -

লবণাক্ত জীবনে আনতো অনন্য মিষ্ট ভারসাম্য।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Wednesday, April 8, 2026

প্রাচীরের উদ্দেশ্য

প্রাচীর করেছে সময়ের সাথে বিভাজন - জমি,

মন ও মানুষের। এমনি আমারও আছে প্রাচীর -

জীবনে ও মনে। দিনে দিনে প্রাচীর হয়ে উঠছে -

তার আকৃতির তুলনায় বৃহৎ। প্রাচীরের যেন এক -

আবশ্যিক দরকার হয় পড়েছে সুরক্ষা, কিন্তু -
কিশের থেকে? কাদের থেকে? এটা জানা নেই!
বাড়ির উঠোনের দক্ষিণা কোণে, নিজেদের বিস্তার -

ছড়িয়েছে গুলঞ্চ লতা শুধু ফুল ও ফল গাছের -

জায়গা হবে সেটা ন্যায়সঙ্গত নয়। তাই যারা -

‘জংলী গাছ’ আখ্যা পেল, আমি তাদেরও দিয়েছি -

স্বাধীন হওয়ার অবকাশ, দিয়েছি স্বাধীন ভূমি।

দু’ধার থেকে ক্রমশই কেঁচোর মতন মাটি কামড়ে,

বড় হচ্ছিল বেশ কিছু ফুলবিহীন লতানো গাছ।

এক সময়, নজরে এলো গুলঞ্চ লতার স্বর্ণালী -

সুতোর মতো জালক। মনে হলো, সৌন্দর্য আছে -

চারিদিকে, শুধু দেখার জন্যে চোখের দরকার।


কিছু সময় পর, অনেকটা নিজেকে বিস্তার -

করে প্রাচীরের দিকে উঠছিল নিজ চেষ্টায়।

অনান্য  লতানো গাছ ঢেকে গিয়েছিল তার -

সবজে রঙের ফুল আর পাতার মহিমায়।

ওপাশের বাড়ির জমি থেকে, উঠে আসা আরো -

এক রাশি গুলঞ্চের দল একই সময়ে প্রাচীর -

বেয়ে এলো। দু’পাশ থেকে এগিয়ে এসে একত্রে -

গেল মিশে। কে কোথা থেকে করেছে নিজের -

সূত্রপাত সেটা তফাৎ করা ছিল অসম্ভব।


‘প্রাচীরের উদ্দেশ্য’ নিস্তব্ধে হেরে যাওযায় আমার -

মন কে আপ্লুত করেছিল। ওদের জোট বাঁধা,

প্রমাণ করেছিল যে প্রাচীর ব্যবধান তৈরি করে -

শুধু মানুষের মাঝে। প্রকৃতির জন্যে, যেই মাটিতে,

প্রাচীর দাঁড়িয়ে, সেই মাটি প্রকৃতির মা।

মায়ের কখনও বিভাজন হয় না, হবেও না।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


ভেবেছ

ভেবেছ কখনো, শুকনো পাতা কোথায় যায়?

ছেড়ে দিয়ে গাছ লুটিয়ে পড়ে শেকড়ের কাছে -

বা হয়তো আরও দূরে নিজের পরিবার থেকে।

সময়ের বৃত্তে আসবে চৈত্রের হাওয়া, তার -

শ্যামল বর্ণ কে দিতে পিঙ্গলতার ছোঁয়া।


আসবে বার্ধক্য, বৃক্ষচ্যুতির অনেকটা পরে।

এর পরেও চলবে এক অনন্য কাহিনী,

যেমন বিভিন্ন ধর্মে উল্লেখ রয়েছে,

মৃত্যু শেষ ধাপ নয়। এর পরেও থাকে -

অনন্তকালের না দেখা, না জানা অসীম যাত্রা।


ভেবেছ কখনো, ঝড়া পাতা পুনরায় ফিরে আসে?

বহু কাল ঘর ছাড়া থেকে, নিজের বাড়ি ফিরলে,

আসে পাশের অনেক বাড়ি ঘর, মানুষজন যেমন -

একটা পরিবর্তনের ছোঁয়া মেখে থাকে, ঠিক অমন।

ঠিকানা হারানো পত্র নিজ এলাকায়, নিজ শেকড়ে

এলে হয়তো থমকে দাঁড়াবে। 


শ্যামলে জড়ানো অতীত দেবে মন কে নারা।

মৃত্যুর পরেও তো মন বেঁচে রয়। শাস্ত্রে বলা -

আত্মা অমর; তাহলে পাতা পাবে তার নাড়ির টান?

বার্ধক্যের নিকটে আসা কিছু পাতা, সঠিক চিনবে 

কিছুটা আগে ছেড়ে যাওয়া সেই ঘর ছাড়া সন্ন্যাসী।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Tuesday, April 7, 2026

ইচ্ছে হয় - ৫/৫

ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে তোমার মনে’র ইচ্ছে জানি,

তবে সেটা শুধু দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গল্প নয়।

যেই কথা মুখে আনোনি কিন্তু আঁখি অবধি এসে -

তারা জীবনের অপেক্ষাগৃহে সঠিক সময়ের জন্যে -

অধীর আগ্রহে বসেছিল, সেই কথা আমায় বলবে?


ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে তোমার কষ্টের ভাগীদার হই,

তবে সেটা জাগিয়ে তুলবে ঘুমন্ত জমাটলাগা ব্যথা।

থাকবো একমনে তোমার হাত নিয়ে নিজের হাতে।

ধীরে ধীরে অসমাপ্ত বাক্যগুলো আমার কাছে -

পূরণ করবে, করবে নিজেকে আলোর পথযাত্রী।

পাবে পুরোনো অনুভূতির এক নতুন স্বাদ।

কোনো ঘর অনেকদিন ধরে বন্ধ থাকার পর,

স্মৃতির দরজা খুলতেই জঞ্জাল ভেদ করে আসে,

এক নতুন আশার আলো।


ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে একটি কথা জিজ্ঞেস করি,

তবে সেটা অভিমানের অধ্যায়, ডাগর আঁখির নয়।

জানতে চাই, কিভাবে এক প্রাণোচ্ছল ঝর্ণাধারা -

নিজের মধ্যে এক কষ্টের মহাসাগর লুকোতে পারে!

উত্তাল সমুদ্র তোমায় দেখে হয় ঈর্ষান্বিত। যেই ঝর,

লৌহ জাহাজকে সমুদ্রে তলিয়ে দিতে পারে সেই -

ঝর বুকে নিয়ে খেয়া নৌকো বাইতে পারার রহস্য -

খুব জানতে ইচ্ছে করে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


ইচ্ছে হয় - ৪/৫

ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে মনে’র হিসেবের খাতা খুলি,

তবে সেটা শুধু ঋণ ও ধারের হিসেব শুধু নয়।

অপূর্ণ ইচ্ছের হিসেবের ওজন কোন দিকে বেশি?

ছোট ইচ্ছেগুলোকে একক ভাবে দেখলে হয়তো,

তার মূল্য ধার্য করা বেমানান, যেমন আজকাল -

মানি ব্যাগে এক-টাকা বা দু-টাকা থাকলে হয়।

জমানো আশা’র ঘটি, জীবনের কঠিন মেঝেতে -

আছাড় দিয়ে চুরমার করলে, তখন ক্ষুদ্র স্বপ্নের -

সমষ্টিগত মূল্য, কিছু তো দামের আকার নেবে?

অনেক বছরের ছোট ছোট কষ্টগুলো যেমন -

চোখ কে শুকনো থাকতে দেয়, তেমনি ওদের -

জোয়ার উঠলে, উপচে পড়ে বাঁধ ভাঙ্গা বন্যা!


ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে ইচ্ছেগুলোকে আপডেট করি,

শুধু নতুন মোড়ক মাত্র, প্রাচীন ইচ্ছে বদলানো নয়।

হয়তো ইচ্ছের বাহারি সাজ সজ্জায় আকৃষ্ট হবে -

অসন্তুষ্ট ভাগ্য, কারণ আজকাল চটকদারি বর্তমান!

জীবন হয়েছে গতিশীল সিঁড়ি, এস্ক্যালেটার, লিফট।

সবাই ইচ্ছেপ্রাপ্তির গতি তীব্রতর করার চেষ্টায়।

আকাঙ্ক্ষার আসমান ধরতে মানুষের তাগিদ -

এখন রকেটের ন্যায় ঊর্ধ্বমুখী। ছুটছে সমাজ -

হাউইবাজির মতো, সখ আহ্লাদ পেছনপানে রেখে-

অগ্নিদগ্ধ ভষ্ম উড়িয়ে চলে অভিলাশার মহাকাশে -

এক অন্ধকারাচ্ছন্ন শূন্যস্থানের অভিপ্রায়। বয়সের -

বিভিন্ন ধাপগুলো ইঁদুর দৌড়ে, রকেটের খণ্ডের -

মতো হারিয়ে যায় অতীতের ত্যাগের খাতায়। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

ইচ্ছে হয় - ৩/৫

ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে তোমায় দেখাই মরু প্রান্তর,

তবে সেই সাধারণ চিকমিকে বালুকার সমষ্টি নয়।

ভাবছো মরুভূমিতে দেখার কি থাকতে পারে?

হাত ধরে এগিয়ে যদি চলো, জীবনের সমস্যার -

প্রখর উত্তাপ যদি অনুভব করো, দেখবে একসাথে -

পথ অতিক্রম করলে তপ্ত বালি কষ্ট দিতে অক্ষম।

মরুর প্রান্তরে দেখাতাম স্বপ্নের নীল আসমানী সমুদ্র! 


ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে তোমায় বলি ঢেউয়ের গল্প,

তবে ওদের বালির চড়ে সাধারণ আছড়ে পড়া নয়।

ভাবছো নোনাজলের কাহিনী কি বা হতে পারে?

পশ্চিমা প্রান্তর থেকে একনাগাড়ে ছুটে এসেছে,

ওরা বিশ্রামহীন, ধাবমান, অনন্তকাল ওদের চলাচল।

ঢেউ লুটিয়ে পড়ে শেষ বার্তা দিয়ে করে মৃত্যু বরণ।

প্রতিটি জলের বুদবুদ বলে তাদের অক্লান্ত যাত্রা’র -

অবহেলিত, নাম-না-জানা, তুচ্ছ অবদানের সংবাদ! 


ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে কিছু ইচ্ছে যদি পূরণ হতো,

তবে আকাঙ্খা অপূর্ণ হলে জীবন মূল্যহীন, তা নয়। 

কারুর সারা জীবনে আকাশকে মুঠোয় বন্দি না -

করতে পেরে যেমন আক্ষেপ হয়, তেমনি কেউ -

খোঁজে শুধু একখণ্ড শক্ত ভূমি অস্তিত্বের জন্যে।

না পেলে উভয় শ্রেণী হয় আশাহত। নাই বা হলো,

স্বপ্নের আকাশ নীলিমায় নীল। একটু ধূসর রঙ -

এনে দেয় এক ভিন্ন মাধুর্য চলার পথে। নাই বা -

আগলে রাখা গেল মুষ্টিমেয় কিছু শীতল শিলা।

আশা পূরণের ভাগ্য, কতজনের জীবনের তপ্ত -

মরুতেই বা নিজেকে উজাড় করে বিলিয়ে দেয়।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬