Friday, February 13, 2026

উঠোন

উঠোনটা নিচু ছিল, পুরোটা ঘেরা ছিল বেড়াতে -

ভালো লাগতো বর্ষায়, কাগজের নৌকোয় হারাতে।


মনের মেলা ছিল, সবাই সাথে ছিল একই বাহারে -

আজ নেই বর্ষার জল তাও, মন হারালো ওই কিনারে!


পুরোনো উঠোন পেরিয়ে, ছিল ধূলোমাখা পথ যত,

বাঁকানো নারকেল পাতার, পড়তো ছায়া অবিরত।


সন্ধ্যায় শঙ্খ বাজতো, কাকভোরে কীর্তনের ধ্বনি -

আজ শুধু খালি পড়ে আছে, কিছু নেই বাকি জানি। 


সময়ের সাথে এগোনো, পুরোনো বন্ধুরা সব দূরে,

মাঠ ফাঁকা, নেই কেউ, যতই ডাকি নাম ধরে।


পুরোনো মুহূর্তগুলো, উঠোনে কাঁদে একা আজ,

স্মৃতির পাতা পাল্টে দেখি, গভীরে লুকানো তার সাজ।


স্কুলের পথে, কাঁঠাল গাছের ছায়া, বকুল ফুলের ঘ্রাণ,

রন্ধ্রে রন্ধ্রে বেঁচে আছে, একা জীবনের পরিত্রাণ। 


দাদুর চওড়া কালো চশমা, দিদার রুপোর পানের বাটা,

হারিয়ে গেছে প্রাণভোমরা, আজ শুধুই স্বপ্নে আঁটা।


নতুন দালানে দাঁড়িয়ে আজ, পুরনো ভিটের পরে,

স্মৃতিরা অশ্রুবিনা কাঁদে শুধু, একা নীরবে অন্তরে।


প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬ 


No comments:

Post a Comment