Friday, May 15, 2026

মেঘ কেটে গেল - sbmt

আজ অনেকটা সময় পার করে রৌদ্র উঠল ফেলে 

আসা যৌবনের পূর্বে। রৌদ্র ছড়িয়ে পড়ল, মেঘ

কেটে দিল বিষন্নতার ছড়ানো চাদর। গ্লানি’র গভীর

ঘন ধূসর মেঘমন্ডল নিজেরা করলো বহুকাল পর

নিজেকে আত্মসমর্পণ মনের নতুন প্রাপ্তির কাছে।


জীবনে প্রথম আনন্দের আলো বিশ্বাস হয় না।

মনে হয় চোখ ও মন ঝলসে যাচ্ছে। স্বপ্নের আবেশ

ভেঙে যাওয়ার পর চোখ খুললে যেমন মনে হয়।

ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে এই সত্য ঘটনার হয় উপলব্ধি।


ছোটবেলায় বিদ্যুৎ-ছাঁটাইয়ের পর আলো ফিরে -

এলে যেমন চোখ ধাঁধিয়ে যেতো, ঠিক তেমনি হয়,

আশাতীত সুখ এলে অন্ধকার মনের কোটরে।

অনেকটা সময়, একটি মজ্জায় গেড়ে বসে থাকা

পুরোনো গাঢ় ব্যথা যেমন গাত্রে একটি স্বাভাবিক,

সহ্য করার মতন অনুভূতি এনে দেয়, ঠিক তেমনি

হয় অনেক কালের কষ্ট বহন করার পরিণতি।


জানি এটা মনের, এক অনন্য অপ্রস্তুত মুহূর্তের

এক সাবলীল অনুভূতি। মেঘ কাটতেও যে সময়

লাগে। ভালোবাসার আস্তরণ নিজেকে বিস্তার হবে,

তার নিজের নির্ধারিত সময়ে। যৌবনের ভাবনায়

আঁকা সেই আকাশ জানি আবার ঘন নীল হবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


নতুন করে

অপেক্ষারত ফাল্গুনে, যখন ফুটবে গোলাপগুচ্ছ -

নতুন করে হবে দেখা, একধারে সমাজ করে তুচ্ছ।

রোমাঞ্চে এই জীবন চলা, ঝরবে শিউলি আশ্বিনে -

কেশের বাঁধন দিও খুলে, উতলা হাওয়া দক্ষিণে।


হবে পরিচয় নতুন করে, সেই উনিশ কুড়িতে দেখা,

জীবনের ক্যানভাসে হবে আঁকা স্বপ্নের প্রথম রেখা।

চঞ্চল দুটি মন স্থির হবে, সময় কিছুটা পার হলে,

সূর্য যেমন শান্ত হয় আগামী পূর্ণিমা সন্ধ্যার কোলে।


আসবে বারংবার সুনামি চঞ্চল যৌবনের আবেগে,

বুঝবো মিষ্ট অস্থিরতা, কিছু নিদ্রাহীন রাত জেগে।

ক্ষণিকের সেতু হয় মেঘ দুটি পাহাড়ের চূড়ার মাঝে,

জমবে নতুন কথা মৃগনয়না কাজল চোখের ভাঁজে।


প্রতিদিনের দেখা, প্রতিদিনের কথা, নতুন পথচলা,

রোজ কিছু জমানো কথা হবে নতুন করে বলা।

মনের ফুলদানিতে ইচ্ছের কুঁড়ি’র অনন্য সাজ হবে,

এমনি করে জীবনের প্রতিক্ষণ শুধুই নতুন রবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


অ-সময়ে

কেউ কড়া নাড়ল অসময়ে, বলল ‘বাড়ি আছো’?

আমি নিতান্তই অবাক হয়ে ভাবি, এখন কে এলো।

চোখে গভীর ঘুমের ছায়া বর্তমান, যেমন সন্ধ্যাবেলা

অনেক সময় পূর্ণিমার রূপালী ছটা ঢাকা পড়ে -

ঘন কালো মেঘে, চাঁদ হয়ে যায় অসহায়।


তাঁও উঠলাম মনের তাগিদে, কেও এসে দাঁড়িয়ে -

আছে সেটা ভাবতে অস্বস্তি বোধ হয়। উঠে দেখি,

চারিদিক অন্ধকার, যেন গভীর অন্তহীন ঘুমের -

দেশে করছি বাকি জীবনের জন্যে বিচরণ।


দরজার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কে’?

কোনো সাড়া পেলাম না। বিব্রত হয়ে আরও একটু

জোরেই প্রশ্ন করলাম, ‘কে আপনি’? উত্তর না -

মেলায় দরজা খুলে দাঁড়ালাম। দেখি কেও নেই।

আশ্চর্য লাগলো কারণ নাড়ার আওয়াজ আমি -

স্পষ্ট শুনেছিলাম।


দরজা বন্ধ করে ঘুরে দাঁড়াতেই, আবার সেই -

পরিচিতি গলায় ডাক, ‘বাড়ি আছো’?

ঘুম ভাঙলো। স্বপ্নের বন্দিদশা থেকে হলাম মুক্ত।

বোধ হলো যে, জীবনের অমূল্য অতিথি ‘সময়’ 

কড়া নেড়ে গিয়েছিল অসময়ে, এটা বোঝাতে যে -

প্রবাহমান সময় ফিরে আসে না, এগিয়ে চলাই -

হলো জীবন। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


হয় ও হয়না

আসবে কিছু নতুন মেঘ, কিছু তো যাবে সরে

আশা করেও হবে না বৃষ্টি, অন্যত্র যাবে ঝরে।

চাইনা যেই সব চিন্তাগুলো ওরাই ঘোরাফেরা করে,

চাই যত ‘পজিটিভ ভাইবস’, ওরাই যে দূরে সরে।


গোলাপের বাগানেও জুঁইয়ের মধুর গন্ধ ছড়ায়,

অথচ জুঁইয়ের বাগানে গোলাপ নিজেকে হারায়।

নৌকো চড়ে ভাবি, ভেসে যাব উতলা নদীর ধারে,

আটকায় নৌকো অনেক আগে যখন ভাটা পরে।


স্বচ্ছ আকাশ পাহাড়ে, সূর্যোদয় দেখার খুব ইচ্ছে,

ধীরে ধীরে ঘিরে কালো মেঘ, চূড়া ঢেকে যাচ্ছে।

ভাবি মাঝে মধ্যে তোমার চোখ নিয়ে কিছু বলি,

মন নিয়ে অজান্তে তোমার কাজলের রেখায় চলি।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


ধরা দেয় না

মুঠোতে ধরে রাখা যায় না নীর, যায় না আবেগ,

কেমন করে ধরী বলো এক চিলতে সাদা মেঘ?

মনে বাঁধা যায় না আশা নাহি কাজল দৃষ্টি নিবিড়

কেমন করে যাবো কাছে, যখন ঢেউ ভাঙে তীর?


ফুলের সুবাস দেয় না ধরা, মরা পাতা যাবে পড়ে,

কেমন করে চলবে মানুষ অতীত কে আঁকড়ে ধরে?

ভোর থেকে বারিধারা, মেঘ রয়েছে আকাশ ঢেকে,

কেমন করে জানব, রবি কোন পথটি চলছে এঁকে?


মনের অনেক কথা তোমাকে চিঠিতে লেখা আছে,

কেমনে হবে শান্ত মন যদি না উত্তর আসে কাছে?

বজ্রপাত আসে অকস্মাৎ, অজানা চমক আসে,

কেমনে জানবে দুটো মেঘ আছে পরস্পরের পাশে?



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

Tuesday, May 12, 2026

UNTIMELY

Someone knocked at the door at an ungodly hour, asking, "Are you home?"

Utterly astonished, I wondered who could have arrived at such a time.

My eyes still bore the heavy shadows of deep slumber—much like at dusk,

when the silvery radiance of a full moon is often obscured

by dense, black clouds, leaving the moon utterly helpless.


Yet, driven by an inner impulse, I rose; the mere thought

that someone stood waiting outside made me feel uneasy. Upon rising, I saw

that darkness enveloped everything—as if I were wandering

through a deep, endless realm of sleep for the remainder of my life.


Approaching the door, I asked, "Who is it?"

I received no response. Feeling somewhat perplexed, I asked again—

this time a little louder—"Who are you?" Receiving no answer,

I opened the door and stood there. I saw no one.

It struck me as strange, for I had

distinctly heard the sound of the knocking.


As I closed the door and turned around, once again came that—

familiar voice calling out, "Are you home?"

I woke up. I was liberated from the captivity of my dream.

I realized that "Time"—life's invaluable guest—had knocked at my door at an unexpected moment,

simply to convey this truth: that the flowing river of time never turns back;

that life, in its essence, is nothing but moving forward.

LATTICE OF THE MIND

A steadfast fortress of my own eyes, I built it.
You never trusted the 'guards of faith'.
On the edge of infinity was the conflict -
of your rare eyes. In the house of faith,
your lattice of the mind was closed.

It's good, we now willingly walk different 
paths. I throw aside 'rumours', the enemy 
of a clear mind. It could have been a diamond,
but you turned it into stone. You took everything, 
but you left distrust behind. There is a closed
room which was a gift from you too.

Some crushed pile of hope, covered beneath 
the sheet of time. A new person in the middle
of the story, I still want in my thoughts,
Fate did not accompany me, I still find a mask.
It's good that we became acquainted, in our once upon a time,
You taught me to recognize those who wear masks.
I always consider myself blessed, no matter how lonely I am,
I will never get such an education anywhere, I will travel the whole world.
The clouds speak their minds, in the blue sky,
The melody that cannot be sung, in the song of a life.
The cotton clouds do not flow, on the level of some dry land,
They fly alone, in the hot pasture of this life.

IF POSSIBLE

If you can, will you go with me,
this far away? Where the darkness
will be little after the blue.
Will you come with me, in the lap
of white clouds? Where the birds fly,
with steady wings. Will you come 
with anklets jingling in the evening
worship room? Even after you are 
gone, the rhythm will remain.

Will you come with me, while climbing
to the highest peak? How is the stream
of water, flowing in your mind.
Do you hear, that incomplete poem?
I will light it in your warm heart,
an extinguished slush. Do you want
to cross, if I ever say, that small 
river that everyone calls life.

Do you know what is right and 
what is wrong? It started moving 
right, but suddenly it left. Have you 
ever realized, how empty this life is?
Open your fist and see once,
the sand of memories will fall.


Prasenjit Das © 1997-2026

Wednesday, May 6, 2026

THE SATISFACTION OF EMPTINESS

Sometimes the mind finds an emptiness, 
a stillness. It finds such, thoughts become -
closed for a moment.
Just as the gentle rain initially takes the -
mind into a joyful atmosphere.

Then, the torrential rain begins, breaking -
the rules. The sound of water drops falling -
says goodbye in an instant. The emptiness -
of the mind is a unique element of writing -
poetry; A new consciousness and thought -
are born from emptiness.

Just as a child asleep in his mother's lap -
comes out of his sleep and searches for -
his mother, only his mother. In the same way, 
the emptiness of the mind creates an incredibly
beautiful background to nurture new thoughts.
Some unique streams of thought are born -
which are recorded in the open green field -
of the poet's mind - Evergreen remains -
the heart of writing.

No thought is ever covered in the shadow -
of another thought . All ideas, imaginations -
and thoughts receive the rays of the sun of -
equal intelligence. A poetic composition of -
different dimensions and different flavors is -
created. The poet gets a unique identity,
his own architecture. 

Prasenjit Das © 1997-2026 

শূন্যতার তৃপ্তি

কখনও কখনও মন একটি শূন্যতা পায়, স্থিরতা -

পায় এমন, চিন্তা হয়ে যায় বন্ধ ক্ষণিকের জন্য।

যেমন টাপুর টুপুর বৃষ্টি শুরুতে মন কে নিয়ে যায় -

এক আনন্দ উচ্ছল পরিবেশে।


তারপর, শুরু হয় নিয়ম ভেঙে ঝরে পরা মুষলধার

বৃষ্টি। জলবিন্দু আছড়ে পড়ার আওয়াজ নিমেষের -

মধ্যে নেয় বিদায়। মনের শূন্যতা কবিতা লেখার -

এক অনন্য উপাদান। শূন্যতা থেকে জন্মগ্রহণ করে

চিন্তা নবচেতনা ও চিন্তা।


মায়ের কোলে নিদ্রাচ্ছন্ন এক শিশু যেমন ঘুমের -

আবেশ থেকে বেরিয়ে এসে তার মা কে খোঁজে,

শুধুমাত্রই তার মা কে, ঠিক তেমনি মনের শূন্যতা -

এক অসম্ভব সুন্দর প্রেক্ষাপট তৈরি করে নতুন -

ভাবনাদের লালন পালন করার জন্যে। জন্ম নেয় -

অনন্যসাধারণ কিছু মনের ধারা যা লিপিবদ্ধ হয় -

কবির উন্মুক্ত সবুজ মনের মাঠে। চির সবুজ -

লেখনীর প্রাণকেন্দ্র।


কোনো চিন্তা কখনও অন্য চিন্তার ছায়াতে ঢাকা -

পরে না। সব ধারণা, কল্পনা ও চিন্তা পায় সূর্যের -

সমান বুদ্ধিমত্তার রশ্মি। সৃষ্টি হয় ভিন্ন মাত্রার ও -

আলাদা স্বাদের এক কাব্যিক রচনা।

কবি পায় এক অনন্য পরিচয়, নিজস্ব স্থাপত্য। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


বিপরীত আমি

মায়ের কোলে এসেছিলাম এক ফাল্গুনের শেষে,

আগমনী হল আমার এক নতুন চৈত্রের বেশে।

ভূমিষ্ঠ হয়েছিলাম বিকেলে, মা পেলেন তাঁর পরিচয়,

তবুও ভোরের প্রথম আলো করে আমার মন জয়।


ছিল তখন কালবৈশাখীর সেই দাপটে চলার সময়,

চালের ওপর বৃষ্টি ঝরাতে আজও গভীর ঘুম হয়।

গ্রীষ্মকালে তপ্ত হাওয়ায় আমার কান্না উঠত মেতে,

আজো লাগে ভালো কুয়াশা ভরা সবুজ ক্ষেতে।


উজাড় হওয়া গাছগুলো হিমেল শীতে হাত বাড়ায়,

খোলা ডালের বাহুডোরে আজো এই মন হারায়।

জন্ম আমার শহরে ঠিকই তবে নীল আকাশ ডাকে,

অট্টালিকা ছুঁতে চায় সাদা তুলো মেঘের ফাঁকে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


রাজপাট

বোতাম টিপে জানা যাবে এবার রাজ্যের অভিপ্রায়,

ক্ষণিকের জন্যে হলেও মানুষ রাজার মুকুট পায়।

বিশ্বাস ভেঙে ভোটের শেষে প্রার্থী স্বরূপে আসে,

ভনীতা’র এই নাটক চলছে দেখে বিধাতাও হাসে।


নতুন মোড়ক পুরোনো কথা মানুষ মন দিয়ে শোনে,

একটাই কলা দেখে বাঁদরগণ আনন্দ পায় মনে।

ওরা বিকাশ বিকাশ খেলেছিল, হলো বিকাশ কই?

ঘোড়া দৌড়ালো গাজর দেখে, নেপোতে মারল দই।


আকাশের নীল ম্লান হলো, সাদা রঙ হলো ফিকে,

চেলা চামুণ্ডা সব উধাও, দেখই না তুমি যেই দিকে।

মিথ্যে গল্পের ভুয়ো চরিত্র, তরওয়াল ছিল না ধার,

মুখোশ পড়ে ভেবেছিল ওরা ফিরে আসবে আবার!



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

দুষ্টু মানুষ

একনাগাড়ে চলছে জীবন আপন মনের তালে,

বাম দিকে হাঁটছে তবে দান দিকে নোংরা ফেলে।

নিজ গৃহের সামনে সবটা স্বচ্ছ রেখে তাদের চলা,

কেনো এমন চালচলন তাদের কখনও হয়নি বলা।


আবর্জনা নিতে আসে, উনি বাঁশি বাজিয়ে জানান,

সব নোংরা ভ্যানে দিলে, তাদের লাগে বেমানান।

বাকি যা নোংরা এরা ফেলে পাশের বাড়ির কাছে,

তবে সাবধান রয় এরা, কেও দেখে না নেয় পাছে!


কিছু নর্দমায়, কিছু রাস্তায়, দুর্গন্ধ বইছে চারিপাশে,

নিয়ম ভঙ্গের আজব আনন্দ, এরাই মুচকি হাসে।

নাক টিপে, নাক চেপে এদের রোজকার চলাচল,

যায়না দুর্গন্ধ এড়ানো, এদেরই কর্মের ফলাফল।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


পুরনো’র নতুনত্য

এই গোলকের নিজের চলা, রোজ নতুন সকাল,

যেন এক আগন্তুকের কড়া নাড়া প্রথম আলোতে।

মানুষের মনের উদ্দীপনা প্রতিটি কালো রাত পার -

করে নিজেকে বোঝায় প্রথম আলো ফোটার সাথে,

আজ সব ভালো যাবে, সব ভালো হবে, সবটাই।


এই অজস্র কোটি বছর পর করে চাঁদ হয়নি যে -

পুরোনো। সে রয়ে গেছে চিরযৌবন সব কবিদের -

লেখনীতে, অতঃপর রয়ে গেছে অমর হয়ে।

চাঁদের হয়েছে তুলনা অসংখ্যবার প্রেয়সীর সাথে।

হয়েছে আবারও অপেক্ষা'র দিনে'র মুহূর্ত পেরিয়ে -

আসার সময়ে। চাঁদকে নিয়ে লেখা হয়েছে বহুবার।


ভাগ আছে রবি'রও বটে, কবিতায়, মনে ও জীবনে।

জন্মলগ্ন থেকে প্রতিনিয়ত যাকে হয়েছে জ্বলতে, সেও 

পেয়েছে তার নিজের অধিকারের জায়গা করতে।

বিরহের অগ্নিসম জ্বালা কি সূর্যের তপ্ততার থেকে,

কোনো অংশে কম? জানে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে,

প্রেয়সীকে খুঁজে বেড়ানো আকুল চোখ। সূর্য -

নিজেকে করে ফেলে লজ্জিত যখন সে দেখে -

বহুদিনের অভুক্ত মাতৃক্রোড় আঁকড়ে থাকা এক -

নিষ্পাপ অভুক্ত শিশু, তার মা ও পরিবার। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


কিছু কথা

কিছু কথা এখনও হয়নি বলা, অল্প আছে বাকি,

ইনিয়ে বিনিয়ে চলছে গল্প, আসলটি দিয়ে ফাঁকি।

ভাবি কতবার বলবো, যা বলার ইচ্ছে জমা আছে,

কেন বার বার থেমে যাই, তুমি এলে আমার কাছে?


সব ভাব এখনও যায়নি বোঝা, আছে তো বাকি,

আন্দাজ করি যদিও, ভাবি আবার ভুল হল নাকি!

গহ্বরের থেকেও গভীরে করে বাস সব নারী’র মন,

যে ভাবে সে নারী’র মন বুঝেছে, নয় সে বিচক্ষণ।


ফুলের ঘ্রাণ হয়না না পুরো, কিছু বাকি রয়ে যায়,

নারী’র মন ছুঁলে তেমনি, নিজ পাপড়ি মেলে দেখায়।

যত নেবে গভীরে সুবাস, হয়না কখনো সম্ভার শেষ,

মনের খোরাক হয়না পূরণ, তাও যে লাগে বেশ।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


পূর্ণিমা রাতে

শীত এসেছে এবার শিউলির সুবাস নিয়ে প্রাতে,

তুমি এসো আমার কাছে, গ্রীষ্মের পূর্ণিমা রাতে।

মাধবীলতার থোকা ফুল শুধু তোমার জন্য ঝুঁকে,

রূপের মাধুরীর সেই কেশ যখন এলিয়ে পরে বুকে।


পূর্ণিমার রূপালী ঝর্ণা, ছড়িয়ে আছে পুরো প্রান্তরে,

বাইরে দেখে আলোকধারা, দেখেনা কেউ অন্তরে।

তোমার তাকানো, একগুচ্ছ চাপা ইচ্ছের ফুলদানি,

সাজাবো মনের কথা, যদি সুযোগ দাও একটুখানি।


এক হিসেব না করা দীর্ঘ সময় অন্ধকারেই ছুটেছি,

চাঁদ কয়েদ ছিল গ্রহণে, আজ এই প্রথম দেখেছি।

উষ্ণ গ্রীষ্মের রাত, তোমার উপস্থিতি হিমেল হাওয়া,

সন্ধ্যার জুই শুধু চায় নিজের সম্ভার লুটিয়ে দেওয়া।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Sunday, April 26, 2026

সীমিত সময়ের সীমানা

জীবনের প্রথম কিছু বছর পার হয়ে অজান্তে,

তারপরেও আরো দু’দশক লাগে মানুষ চিনতে।

যদিও, এই প্রক্রিয়াটা জীবনভর চলতে থাকে,

কিছু বিশ্বাস বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে যায় সময়ের ফাঁকে।


মনে হয় প্রতি ধাপে হয়তো অতীতটা ছিল ভালো,

আগামী দিন উজ্জ্বল জেনেও কখনো লাগে কালো।

সীমিত সময়ের সীমানায় সবার গণ্ডি আঁকা আছে,

পাশে থেকে কথা নেই, দূরে থেকেও কেউ রয় কাছে।


জীবনের প্রাণকেন্দ্র থেকে বহু দূরে যেতে মন চায়,

সময়ের সীমানায় গিয়ে বসবো, এমনি যেন হয়।

জীবনের ঘূর্নিপাক দেখব শুধু একপাশে দাঁড়িয়ে,

ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষার ঢেউয়ের উর্দ্ধে যাবো ছাড়িয়ে।


জানি এই পরিধি প্রতিক্ষণ সংকুচিত হয়ে চলছে,

অতীতের ধোঁয়া বলে, এখনও কিছু স্মৃতি জ্বলছে। 

জীবনবৃত্ত একদিন, কেন্দ্রে মিলে উধাও হয়ে যাবে,

জানবে, অধরা কিছু স্বপ্ন আমার এমনি পরে রবে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


দীর্ঘ বছর পর

দীর্ঘ বছর পর এলে, আমার এমনি মনে হয়,

একসাথে সব ইচ্ছে পূরণ, লাগে যে একটু ভয়।

যেই চৌকাঠ দিন গুনেছে, তুমি আজ করলে পার,

উলুধ্বনি দিলো ভাগ্য, মনে শান্তি এলো প্রথমবার।


দীর্ঘ বছর পর এলে, কি ভাবছো একটু বলো,

তোমারও একই শিহরণ, বিধির বিধান লেখা হলো।

রাস্তা বিহীন মরুতে আমি চলেছি একাকী বহুকাল,

মরুদ্যানের আগে পায়নি দেখা, এমনি ছিল হাল।


দীর্ঘ বছর পর এলে, বন্ধ ঠোঁট, চোখের ভাষা অন্য,

তোমারও যে একই ইচ্ছে, সব উজাড় করার জন্য।

ঘূর্ণি পথ চলেছি পাহাড়ে, চূড়ার পায়নি যে দেখা,

অনেক কাল পরে মিলন, এমনি ভাগ্যে ছিল লেখা।


দীর্ঘ বছর পর এলে, এমন ভাবনা কেন মনে আসে,

তোমার ছোঁয়াতে এমন যেন, চিরকাল ছিল পাশে।

চলার পথে মন বলেছে, আমি এমনি চলে যাবো,

কালচক্রে নির্দিষ্ট ক্ষণে আমি তার দেখা পাবো।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Friday, April 24, 2026

অপেক্ষা

অপেক্ষায় থাকার অপেক্ষা অনেকের হয় জীবনে।

অপেক্ষারত অসহিষ্ণুতার আনন্দ জানে শুধু গাছ,

যে করেছে বসন্তের প্রথম ফুলের অপেক্ষা, নিজ -

ডালে ঝড়া পাতার মরসুম পার করে এসে।


প্রথম কুঁড়ি ফুটে ওঠার অপেক্ষা, মন কে দেয় -

শূন্য থেকে সৃষ্টি হওয়ার, এক অনন্য অনুভূতি।

বর্ষার পূর্বে, নীল আকাশের তপ্ততায় ঝলসানো -

শ্যামল পাতার উদগ্রীব হওয়া প্রথম জলবিন্দুর -

স্পর্শ, এনে দেয় এক অদ্বিতীয় মাধুরী।


প্রেমপত্র লিখনে প্রতিটি শব্দের অপেক্ষা থাকে -

তার পরবর্তী প্রতিবেশী শব্দের। শব্দের চেয়ে -

থাকা সময়ের দিকে, পুরো বাক্য শেষ করার।

একটি পূর্ণ চিঠি, লেখা শেষ করলেই হয় তা নয়।

সে শিখরে পায় স্থান, যখন এসে পৌঁছোয় উত্তর!


অপেক্ষার মিষ্ট যন্ত্রণা জানে, কৈশোরের ভেলায় -

ভেসে বেড়ানো প্রেম কাতর কোন ছেলে-মেয়ে।

দেখা হওয়ার থেকে বেশি রোমাঞ্চকর, সেই মনের -

মানুষের জন্য উদগ্রীব হয়ে শূন্য আকাশ দেখা।

ভালোবাসার ভেসে বেড়ানো মেঘ একত্রে এলে, 

হয় দীর্ঘ ছটফটে মনের অপেক্ষার অবসান।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


জানলো না

জানলো না কখনও রাত, ভোরের আলোর আমেজ।

প্রতিটি তোমোসিনী রাত্রি নিজ সম্ভার তুলে দেয় -

আগামী অপেক্ষারত ভোরের আলোর কাছে।

চেয়েও সে দেখতে পায় না, কেমন করে রোজ -

সকালের আরমোড়া ভেঙে পৃথিবী বক্ষে প্রথম -

আলো নিজ রূপের করে অপার বর্ণনা।


জানলো না কখনও ভোর, রাতের নিস্তব্ধতার -

মাধুরী। নিকটে বসে থেকে, বন্ধ আঁখি প্রেয়সী’র -

অমলিন মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যকে নিজের মধ্যে,

এক ভালোলাগার আমেজে বৃদ্ধি পেতে দেওয়ার -

এই অনুভূতি থেকে ভোর রয়েছে চির বঞ্ছিত।

জীবনে আলো ছায়ার সহবাসের এটাই বিড়ম্বনা।


জানলো না কখনও গাছের ছাল, বৃক্ষের নরম -

অন্তরে ধাবিত হওয়া চঞ্চল প্রাণসঞ্চারের কাহিনী।

আজ যে অপাংক্তেয়, বহিরাগত, সেও ছিল এক -

সময়ে বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রাণবন্ত জীবন শৈলীর -

কেন্দ্র বিন্দু। শিশুর বার্ধক্যের পথে বেড়ে ওঠার -

গল্প যেমন সে নিজে মনে রাখতে পারে না, ঠিক -

তেমন পরিণতি বার্ধক্যে পৌঁছে শৈশব ভোলার। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


তুমি কি জানো? - sbmt

তুমি কি জানো, কিভাবে জ্বলছে দাবানল অন্তরে?

না বলা বহু কথার চাপা ধোঁয়া বুকে রয়েছে ভরে।

পারো কি করে অবলীলায় নূপুর পায়ে সুর তুলতে?

ঠোঁটে আসা কথা, হারায় ভাষা, বাধ্য করে ভুলতে।


আমার সব নিজের করে, তুমি চাওনি কোন ভাগ,

যেমন দেহেতে প্রমাণ রয়, কোন এক জন্মের দাগ।

গত পৌষে দুই অচেনা’র, পরিচয়ের মুহূর্ত জাগলো,

শুকনো পাতায় যেন, অপেক্ষারত আগুন লাগলো।


জানো কি কত ভোর, দুপুর, সন্ধ্যা এমনি গেছে চলে?

পার করে এসেছি অনেক সময়, মনের কথাটি না বলে।

জানো কি তুমি, তোমার সুবাস রয়েছে আমার ঘ্রাণে?

আমার জীবনের প্রতি অংশ ভরেছে তোমারই প্রাণে।


জানো কি তুমি, কতটা বিস্তার জীবনের চরাচরে?

যেমন রামধনুর রঙ নীল আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

জানো কি তুমি, কখন নিজের ঠিকানা হারালো মন?

এসেছিলে মৃদু পায়ে সাবলীল বধূ সাজে যখন।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


Tuesday, April 21, 2026

সেদিন বৃষ্টি হলো

সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, কিছু মেঘ ছিল মনে,

ঝিরিঝিরি এলো জলবিন্দু, তুমি এলে যেই ক্ষণে।

হালকা ঠান্ডা, শুষ্ক হাওয়া বইছিলো যে চারিধারে,

ভালোবাসার আর্দ্রতায় ভরালে, এসে আমার ঘরে।


অনন্ত পশ্চিম আকাশে, ছিল জমাট মেঘে ভরানো,

দ্বিধায় ফেলেছিল, তোমার খোলা চুলে দাঁড়ানো।

বহুবার আগে এসেছো, ঘুরে গেছ এখান থেকে -

ফিরে যেতে তখন শুধু, একটু চোখের দেখা দেখে।


শিয়রে বন্দি কেশ, তুমি মেলে ধরলে ঝর্ণা ধারায়,

দেখেছ মনের মেঘ, কেমন নিজের মনেতে হারায়?

একগুচ্ছ আকাঙ্ক্ষারা, নিজের মতনই উঠল ফুটে,

ফুলের থেকে সুবাস যেন, মনের ভ্রমর নিলো লুটে।


অসাড় যখন মন, আমি তোমার আঁখির কথা শুনি,

নিষ্পলক চাউনিতে লেখা হাজার কবিতা জানি!

ভাঙতে দেখেছি মেঘ, দেহের জড়তা ভাঙে যেমন,

আকাঙ্ক্ষার উষ্ণ বর্ষা, ইচ্ছের বাঁধন ভাঙে তখন।


অলিখিত বাসনার হ্রাসি, মনের ফুলদানি ভরে দেয়,

বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে, যেন নতুন গল্প লেখা হয়।

তৃপ্ত আকাশ সাক্ষী ছিল নিজ মেঘকে উজাড় করে,

নতুন চলার সূচনা হলো একে অপরের হাতটি ধরে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬