Thursday, February 5, 2026

কৈশোরের চৌকাঠ

চৌকাঠের বাইরে পা, দরজা রেখেছো বন্ধ -

ডাকবো কিনা ভেবেছি, মনের মাঝে দ্বন্ধ।

পেছন দিকে দেখি, দুধারেই মানুষের চরাচর -

হৃদয়কে দিয়েছি ডাক, তুমি খালি করেছো ঘর।


মনের কোণে কম্পন এক, সময় গিয়েছে থেমে -

কৈশোর প্রেমের প্রথম ছোঁয়া, যৌবনেতে নেমে।

মাথা নিচু, আড়চোখে দেখা, অসম স্পন্দন করে -

বসন্তের কোকিল, শ্রাবণেতে যখন, মধুর সুর ধরে।


একই দৃশ্য দেখি আমি, যখন চৌকাঠেতে চাই -

পূজার দুপুরে পায়ে নূপুর আর আলতা ছিল তাই।

অলস ছিল বিকেলগুলো, কিশোর কুমার জীবন জুড়ে -

রেডিওতে ইয়োডলিং, যেতাম মনের সীমানা পার করে।


বুক ভার করা কষ্ট, উর্দ্ধে চোখেই নিকাশি পায় -

জমে থাকা আকাশের দুঃখ, মেঘ বৃষ্টি হয়ে যায়।

পাথরের বোঝা বুকে নিয়ে, নদীর একক অঙ্গীকার -

প্রাচীন অশ্রু সাথে নিয়ে, বয়ে চলছে নির্বিকার। 


নিয়েছ নতুন বাঁক, পুরনো ছেড়ে নতুন কে খুঁজতে -

নতুনও পুরনো হবে, একদিন পারবে এই ভুল বুঝতে।

এই কালচক্রে যে নদী, সদাই সমুদ্রে গিয়ে মেশে -

সেই অন্তিম ক্ষণে একবার, দেখা হবে অবশেষে। 


প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

No comments:

Post a Comment