Monday, March 2, 2026

জানুয়ারি - ১৯৮২

আশান্বিত মন আর ক্লান্ত কৈশরীয় ভালবাসা -

আঠারো বছর বয়সের এক অনন্য উপাদান।

চঞ্চল মন ভুলে যায় স্থিরতা; স্থিরতা? সে থাক!

মেঘ রঙিন হতে সময় নেয়, সে নিক; সব ভালো -

পরিণতি, এক দীর্ঘ অপেক্ষার পরীক্ষায় জড়ানো। 


শুধুই কি পিপাসার্ত খোঁজে তৃষ্ণা মেটানোর সুধা?

মরুদ্যানের কাছেও এই প্রশ্ন রাখা হয় ইশারায়!

নীল আকাশেকে সাক্ষী রেখে, উত্তরের ধুলোঝড় -

নিয়ে এসেছিল পথ হারানো যাযাবরের বার্তা।

উত্তাল ঢেউ কি শুধুই মহাসাগরের অধিকার?


দেহের ঘেরাটোপে আবদ্ধ এই মনে, বহু মহাসাগর -

নিজের ঠিকানা হারিয়েছে, হয়তো হারাতে চেয়েছে -

বললে সম্পূর্ণ সত্যি বলা হবে। অগ্নিসম উত্তাপের -

মাঝে নিজের অস্তিত্বকে ধরে রেখে, চঞ্চল -

আকাঙ্খা'র সংযমকে, বেঁধে রাখার মিষ্ট অস্থির -

যন্ত্রনা, একমাত্র অপেক্ষারত মরুদ্যান জানে। 


এক সপ্তাহের নিয়মিত মূক অবস্থানে, একে অপরকে -

দেখে এক লজ্জান্বিত হাসি বিনিময়ের কিছুদিন পর,

সেই রমণীর ছাদ থেকে শোনা যেত রোমান্টিক গান।

রফি সাহেবের প্রশ্নের উত্তর, আসতে শুরু করে -

পাশের ছাদ থেকে, লতাজি'র কোকিল কণ্ঠে । 

মাঝে মধ্যে, দুটো ছাদের ব্যবধান কে তুচ্ছ করে, 

বিনা মেঘে শিলা বৃষ্টির ন্যায়, পৌঁছে যেত পাথরে -

মোড়ানো চিঠি।


শহরে তখন শীত প্রবাহমান, কিন্তু ওই দুটি ছাদ -

উষ্ণ তাপের পরিধির মাঝে সুরক্ষিত। রামধনুর রং -

হয়ে উঠলো অনেক গাঢ়, চিঠির ব্যাপ্তিও বৃদ্ধি পেল। 

পৌষের প্রশ্নের চিরস্থায়ী উত্তর এলো মাঘের শুরুতে।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬ 


No comments:

Post a Comment