Wednesday, March 11, 2026

দুই স্টপ পরে

রোজকার দৌড়ে ট্রেন ধরা, এক নিয়মিত যুদ্ধ -

অফিসে ঠিক সময়ে পৌঁছানো সেই একই লড়াই।

আগে সূর্যাস্তে শাঁখ বাজালে হতো যুদ্ধ বিরতি।

বড় শহরের এটাই লক্ষণ, সে বিরতিহীন চলছে ...

অফিস থেকে ফেরার সময়ে কোনো মিশ্রিত লগ্নে -

ভালো না খারাপ জানা ছিল না, ট্রেনটা মিস হয়।

সন্ধ্যাকালের ট্র্যাফিকের কথা ভেবে জ্বর আসে। 

অফিসে আত্মসসমর্পনের পর, উধাও দেহের শক্তি।


বাসে উঠতেই বিরক্তিটা গেলো চরমে বেড়ে।

ভিড় ঠেলে একটু এগোতেই চোখে পড়লো, 

এক মোনমোহক মুখমন্ডল, এক চঞ্চলতা -

ঠিক যেন কোনো উঁচু শৃঙ্গ থেকে শুদ্ধ আলোর -

ছটা নেমে এসে ম্লান কুয়াশার দল ভেদ করে -

এটা জানাতে, যে এখন হবে এক নতুন সূচনা।

সন্ধ্যাতে ভোরের আলোর এক অনন্য স্নিগ্ধতা।

ভাবলাম ট্রেন না ধরতে পেরে ভালোই হল।


কিছু সময় পর এলো, কাছে আসার সুযোগ

সেইদিন এই নাস্তিকের, প্রথমবার ঈশ্বর কে -

বিশ্বাসের, এক তীব্র প্রবণতা জেগে উঠেছিল।

এই প্রথম মন চাইল, রাস্তার ভিড়টা বেড়েই চলুক!

একসাথে দুটো সিট খালি হতেই একত্রে বসা।

ঠোঁটকে বিশ্রাম দিয়ে, চোখে চোখে কথোপকথন।

হৃদয়ে পূর্ণিমার ছোঁয়া পেতে, দুটো স্টপ মিস করি। 

এমন চলতে থাকে বাসের জন্যে ট্রেন ছেড়ে দেওয়া।

দীর্ঘ দুই মাস পর, এক ক্যাফেতে লাঞ্চ ডেট ছিল।  



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬ 


No comments:

Post a Comment