তোমার যৌবন মনের স্বপ্নের গাছ, এতদিনে হয়েছে বড়,
শুষে নিয়েছ যত ভালোবাসা, গোড়ায় করেছিলাম জড়ো।
আমি শিরায় উপশিরায় গিয়েছি মিশে, পেরেছিলে কি বুঝতে?
মনের শাখায়, স্নেহের কণা, তুমি কখনো চাওনি তো খুঁজতে!
এলো নতুন পাতা, তুমি পেলে সমাজে, এক গাছের পরিচয়,
স্থান, মান হলো তোমার সমাজে, তাহলে শেকড়ের কেন নয়?
তুমি সময়ে, হয়ে উঠেছিলে বড়ো, ডালপালা দিয়েছিলে ছড়িয়ে,
আমি গভীরে নিজেকে বিলিয়ে, তোমার জন্যে গিয়েছি হারিয়ে!
এই ভরা ফল ফুলের সংসারে, তুমি কোকিলকে দিয়েছিলে স্থান,
জীবনকাল থেকেছি আমি অন্ধকারে, ক্ষত বিক্ষত করেছ মান।
আমার বিশ্বাস মাড়িয়ে, তুমি সদাই নিজেকে রেখেছ ভালো,
আলো বাতাস সব পেয়েও যে, তোমার মনটা চূড়ান্ত কালো!
বসন্ত রেখেছ কয়েদ করে, শুধু ঝরাপাতা পেয়েছি আমি,
জীবনের এই সাঁঝবেলাতে, আজ প্রতিবাদ উঠছে উর্দ্ধগামী।
এই বাগানে মহীয়ান তুমি, চারিপাশে দেখি রঙিন ফুলের গুচ্ছ,
আমি ত্যাগের পরিধি নিয়েছি গুটিয়ে, ভেবেছিলে আমায় তুচ্ছ!
যে পাখির দল জায়গা পেয়ে, ফলগুলো অবাধে ঠুকরে খায়,
এরা ক্ষনিকের সুবিধে ভোগী, তোমার তোষামোদে গান গায়।
কালান্তরে সবাই যাবে ছেড়ে, তখন নিচে একটু দেখো তুমি,
তোমায় তখনও থাকবে ধরে, সেই পদপৃষ্ঠ, অবহেলিত আমি!
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment