‘অবেলার’ জন্যে অপেক্ষায় গড়িয়ে যায় বেলা।
কোন বেলায় সে এসে বলবে, ‘এখন জীবনের -
পড়ন্ত বেলা হলো শুরু’, তারই অপেক্ষা চলছে।
এখনো উঠোনে, কাগজের প্লেন উড়িয়ে দেখি,
সুপুরী গাছ অবধি পৌঁছতে পারে কি না। যদিও -
সেটা আজও পৌঁছয়নি, তবে কাগজের নৌকো -
ভাসিয়ে নিয়ে গেছি বেশ দূরে নর্দমার স্রোতে।
ছোটবেলার স্মৃতিগুলো, খড়কুটোর মতন আঁকড়ে -
ধরেছি আজো, তাই ভেবে পাইনা উত্তর, ‘আমি -
কি সেই পড়ন্ত বেলার জন্যে তৈরী? হয়তো না!
বিভিন্ন স্মৃতির মালা, এখনো মনের ভালো লাগার -
সাজবাক্সে সযত্নে আগলে রাখা আছে।
চাওয়া পাওয়ার উন্মুক্ত গগনে, স্বপ্নের রঙিন ঘুড়িকে -
মাঞ্জা দেওয়া আকাঙ্খার সুতো'র দ্বারা বেঁধে রেখেছি -
অতীতের সেই চঞ্চল ফস্কে যাওয়া ছোটবেলায়।
চার দশক পার করে, ক্রমাগত সময়ের সাথে নিজ -
গতিতে এই জৈব দেহের প্রতিটি কণা ও কোষগুলি -
পেয়েছে তার প্রাকৃতিক বয়স, কিন্তু মন গেছে থমকে।
নিজ অতীতের রঙ্গমঞ্চে চলছে যাত্ৰা; এক অসম দ্বিধান্বিত -
‘অবেলার’ অপেক্ষারত একক শিল্পীর প্রদর্শন হচ্ছে -
দর্শক স্বয়ং আমি। এই নাট্যশালায় বহমান প্রদর্শনী।
পড়ন্ত বেলা বন্দি আছে অতীতের মনের কোটরে।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment