Sunday, March 15, 2026

পড়ন্ত বেলা

‘অবেলার’ জন্যে অপেক্ষায় গড়িয়ে যায় বেলা।

কোন বেলায় সে এসে বলবে, ‘এখন জীবনের -

পড়ন্ত বেলা হলো শুরু’, তারই অপেক্ষা চলছে। 

এখনো উঠোনে, কাগজের প্লেন উড়িয়ে দেখি,

সুপুরী গাছ অবধি পৌঁছতে পারে কি না।  যদিও -

সেটা আজও পৌঁছয়নি, তবে কাগজের নৌকো -

ভাসিয়ে নিয়ে গেছি বেশ দূরে নর্দমার স্রোতে।


ছোটবেলার স্মৃতিগুলো, খড়কুটোর মতন আঁকড়ে -

ধরেছি আজো, তাই ভেবে পাইনা উত্তর, ‘আমি -

কি সেই পড়ন্ত বেলার জন্যে তৈরী? হয়তো না!

বিভিন্ন স্মৃতির মালা, এখনো মনের ভালো লাগার -

সাজবাক্সে সযত্নে আগলে রাখা আছে।


চাওয়া পাওয়ার উন্মুক্ত গগনে, স্বপ্নের রঙিন ঘুড়িকে -

মাঞ্জা দেওয়া আকাঙ্খার সুতো'র দ্বারা বেঁধে রেখেছি -

অতীতের সেই চঞ্চল ফস্কে যাওয়া ছোটবেলায়। 

চার দশক পার করে, ক্রমাগত সময়ের সাথে নিজ -

গতিতে এই জৈব দেহের প্রতিটি কণা ও কোষগুলি -

পেয়েছে তার প্রাকৃতিক বয়স, কিন্তু মন গেছে থমকে। 


নিজ অতীতের রঙ্গমঞ্চে চলছে যাত্ৰা; এক অসম দ্বিধান্বিত -

‘অবেলার’ অপেক্ষারত একক শিল্পীর প্রদর্শন হচ্ছে -

দর্শক স্বয়ং আমি। এই নাট্যশালায় বহমান প্রদর্শনী।

পড়ন্ত বেলা বন্দি আছে অতীতের মনের কোটরে। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

No comments:

Post a Comment