Monday, March 2, 2026

ডিসেম্বর - ১৯৮১

আকাশ দেখার অধিকার তো সবার আছে -

তবে সাথে চাই, মেসোপটেমিয়ার থেকে বার্তা -

নিয়ে ভেসে আসা, তুলোর মতন কোমল মেঘ।

ছুটির দিনে, দুপুরে শীতের হালকা রৌদ্রের তাপ -

মনোরম করে তোলে অসীম নীলের মাঝে হারানো। 

কৈশোরের অপেক্ষায়, মেঘও হয়ে ওঠে রঙিন!


সাদা শাড়ি লাল পাড়, শুধু কি গৃহিণীদের জন্যে?

এর স্বচ্ছ উত্তর হঠাৎ নজরে এলো, পাশের বাড়ির -

খোলা ছাদে, ভেজা চুলে এসে দাঁড়ালো এক তরুণী।

তখন প্রথম বোঝা গেল, হৃদযন্ত্রটি সবসময় অঙ্কের -

নিয়ম মানে না। অসমীকরণের অধ্যায়, মনে -

করিয়ে দেয়, ‘বিউটি লাইজ ইন দি লিটল থিঙ্গস’...


তখন রেডিওয়ে, ইস্ট বেঙ্গলের জেতার আনন্দ -

ছাপিয়ে মাথায় জায়গা করে, এক ষোলো বা -

সতেরোর, কোকড়ানো চুলের অধিকারিণী।

মন কেমন যেন ফুরফুরে লাগতে শুরু করে।

শীতকালের বাস্তবতা উপেক্ষা করে, মনে তখন -

বসন্ত বিরাজমান। রফি সাহেবের গানের মর্ম -

তখন বেশি করে উপলব্ধি হয়। 


মন তখন অধির আগ্রহে অপেক্ষারত, এক অনবদ্য -

যুগলবন্দির ফলাফলের - ইচ্ছে ও ভাগ্যের লড়াই!

মেঘের উড়ো চিঠি, সেদিন খবর পৌঁছে দিয়েছিল -

মিশরের যাযাবর এসেছে মরূদ্যানের খোঁজে!

দু’দিনের অপেক্ষা’র তৃষ্ণা’র অবসান ঘটলো, 

প্রথম দেখা, প্রথম ভালো লাগা সেই ওয়েসিস।


সাদা শাড়ি লাল পাড়, কোকড়ানো চুল খুলে রাখা,

রেলিং-এ ভর দিয়ে, ঘুরে তাকানো - চোখও কথা বলে!

বহু প্রত্যাশিত এক মুচকি হাসি; স্মৃতির উর্বর মৃত্তিকায় -

যেন বাস্তবায়িত হলো কোনো এক শিল্পীর কল্পনা। 

মেঘ পেল রামধনুর রঙ আর ১৯৮১ তার চিরযৌবন!



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬

No comments:

Post a Comment