আকাশ দেখার অধিকার তো সবার আছে -
তবে সাথে চাই, মেসোপটেমিয়ার থেকে বার্তা -
নিয়ে ভেসে আসা, তুলোর মতন কোমল মেঘ।
ছুটির দিনে, দুপুরে শীতের হালকা রৌদ্রের তাপ -
মনোরম করে তোলে অসীম নীলের মাঝে হারানো।
কৈশোরের অপেক্ষায়, মেঘও হয়ে ওঠে রঙিন!
সাদা শাড়ি লাল পাড়, শুধু কি গৃহিণীদের জন্যে?
এর স্বচ্ছ উত্তর হঠাৎ নজরে এলো, পাশের বাড়ির -
খোলা ছাদে, ভেজা চুলে এসে দাঁড়ালো এক তরুণী।
তখন প্রথম বোঝা গেল, হৃদযন্ত্রটি সবসময় অঙ্কের -
নিয়ম মানে না। অসমীকরণের অধ্যায়, মনে -
করিয়ে দেয়, ‘বিউটি লাইজ ইন দি লিটল থিঙ্গস’...
তখন রেডিওয়ে, ইস্ট বেঙ্গলের জেতার আনন্দ -
ছাপিয়ে মাথায় জায়গা করে, এক ষোলো বা -
সতেরোর, কোকড়ানো চুলের অধিকারিণী।
মন কেমন যেন ফুরফুরে লাগতে শুরু করে।
শীতকালের বাস্তবতা উপেক্ষা করে, মনে তখন -
বসন্ত বিরাজমান। রফি সাহেবের গানের মর্ম -
তখন বেশি করে উপলব্ধি হয়।
মন তখন অধির আগ্রহে অপেক্ষারত, এক অনবদ্য -
যুগলবন্দির ফলাফলের - ইচ্ছে ও ভাগ্যের লড়াই!
মেঘের উড়ো চিঠি, সেদিন খবর পৌঁছে দিয়েছিল -
মিশরের যাযাবর এসেছে মরূদ্যানের খোঁজে!
দু’দিনের অপেক্ষা’র তৃষ্ণা’র অবসান ঘটলো,
প্রথম দেখা, প্রথম ভালো লাগা সেই ওয়েসিস।
সাদা শাড়ি লাল পাড়, কোকড়ানো চুল খুলে রাখা,
রেলিং-এ ভর দিয়ে, ঘুরে তাকানো - চোখও কথা বলে!
বহু প্রত্যাশিত এক মুচকি হাসি; স্মৃতির উর্বর মৃত্তিকায় -
যেন বাস্তবায়িত হলো কোনো এক শিল্পীর কল্পনা।
মেঘ পেল রামধনুর রঙ আর ১৯৮১ তার চিরযৌবন!
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment