কৈশরকালে উদ্ভট ভাবনা মনের অনেকটা স্থান -
জুড়ে ছিল। মানুষ টাকা জমা রাখে ব্যাংকে ভিন্ন -
কারণে। মননে আসতো, যদি সময় গচ্ছিত রেখে -
সময়ের ওপর সুদ পাওয়া যেতো!
জীবনের ভালো সময়ে, যদি অল্প অল্প করে নিজ -
সামর্থ্য বিশেষে, সবার থাকতো সময়ের অ্যাকাউন্ট।
নির্দিষ্ট সুদের হারের কড়াকড়ি হতো অপ্রয়োজনীয়।
অল্প বয়সের সোনালী মুহূর্তগুলো, যদি কম খরচ -
করে আগাম দিনগুলোতে ব্যায় করার উপায় হতো!
ভালো সময়ের চলাতে, মানুষ এটা খেয়াল করে না,
যে সেই সময়ের আছে নির্দিষ্ট মেয়াদকাল। তবে -
এটাও বিড়ম্বনা যে, খারাপ সময় নিজেই এই -
শর্তাবলীর ঘেরাটোপের বাইরে। জীবনে অর্থ -
প্রাপ্তির একটা সময়সীমা ও পরিমাণ থাকে, কিন্তু -
দারিদ্রতার কোনো সীমা নেই, যেমন দুঃসময়ের!
টাকার মূল্য আর্থিক জগতে ক্ষয় আছে, কিন্তু -
সময় মূল্যবান আর স্বর্ণালী মুহূর্তগুলো অমুল্য।
শৈশব থেকে কৈশোর অবধি, বাবা মায়ের যেই -
ছায়া’র সুখ মানুষ পায়, তার এক ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ -
ভবিষ্যতের জন্যে, সময়ের ব্যাংকে জমা হতো -
স্থায়ী আমানত হিসেবে। ওই পুঁজি, মাঝ বয়স -
থেকে অন্তিম লগ্ন করা যেতো খরচ।
সুখ প্রাপ্তির সুদের পরিমাণ, ফুলেফেঁপে হতো -
শেষ জীবনে মূলধনের চেয়ে অধিক। বার্ধক্যের -
লবণাক্ত জীবনে আনতো অনন্য মিষ্ট ভারসাম্য।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment