Thursday, April 9, 2026

সময়ের ব্যাংক

কৈশরকালে উদ্ভট ভাবনা মনের অনেকটা স্থান -

জুড়ে ছিল। মানুষ টাকা জমা রাখে ব্যাংকে ভিন্ন -

কারণে। মননে আসতো, যদি সময় গচ্ছিত রেখে -

সময়ের ওপর সুদ পাওয়া যেতো!


জীবনের ভালো সময়ে, যদি অল্প অল্প করে নিজ -

সামর্থ্য বিশেষে, সবার থাকতো সময়ের অ্যাকাউন্ট।

নির্দিষ্ট সুদের হারের কড়াকড়ি হতো অপ্রয়োজনীয়। 

অল্প বয়সের সোনালী মুহূর্তগুলো, যদি কম খরচ -

করে আগাম দিনগুলোতে ব্যায় করার উপায় হতো!


ভালো সময়ের চলাতে, মানুষ এটা খেয়াল করে না,

যে সেই সময়ের আছে নির্দিষ্ট মেয়াদকাল। তবে -

এটাও বিড়ম্বনা যে, খারাপ সময় নিজেই এই -

শর্তাবলীর ঘেরাটোপের বাইরে। জীবনে অর্থ -

প্রাপ্তির একটা সময়সীমা ও পরিমাণ থাকে, কিন্তু -

দারিদ্রতার কোনো সীমা নেই, যেমন দুঃসময়ের!


টাকার মূল্য আর্থিক জগতে ক্ষয় আছে, কিন্তু -

সময় মূল্যবান আর স্বর্ণালী মুহূর্তগুলো অমুল্য। 

শৈশব থেকে কৈশোর অবধি, বাবা মায়ের যেই -

ছায়া’র সুখ মানুষ পায়, তার এক ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ -

ভবিষ্যতের জন্যে, সময়ের ব্যাংকে জমা হতো -

স্থায়ী আমানত হিসেবে। ওই পুঁজি, মাঝ বয়স -

থেকে অন্তিম লগ্ন করা যেতো খরচ।


সুখ প্রাপ্তির সুদের পরিমাণ, ফুলেফেঁপে হতো -

শেষ জীবনে মূলধনের চেয়ে অধিক। বার্ধক্যের -

লবণাক্ত জীবনে আনতো অনন্য মিষ্ট ভারসাম্য।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment