Wednesday, April 8, 2026

প্রাচীরের উদ্দেশ্য

প্রাচীর করেছে সময়ের সাথে বিভাজন - জমি,

মন ও মানুষের। এমনি আমারও আছে প্রাচীর -

জীবনে ও মনে। দিনে দিনে প্রাচীর হয়ে উঠছে -

তার আকৃতির তুলনায় বৃহৎ। প্রাচীরের যেন এক -

আবশ্যিক দরকার হয় পড়েছে সুরক্ষা, কিন্তু -
কিশের থেকে? কাদের থেকে? এটা জানা নেই!
বাড়ির উঠোনের দক্ষিণা কোণে, নিজেদের বিস্তার -

ছড়িয়েছে গুলঞ্চ লতা শুধু ফুল ও ফল গাছের -

জায়গা হবে সেটা ন্যায়সঙ্গত নয়। তাই যারা -

‘জংলী গাছ’ আখ্যা পেল, আমি তাদেরও দিয়েছি -

স্বাধীন হওয়ার অবকাশ, দিয়েছি স্বাধীন ভূমি।

দু’ধার থেকে ক্রমশই কেঁচোর মতন মাটি কামড়ে,

বড় হচ্ছিল বেশ কিছু ফুলবিহীন লতানো গাছ।

এক সময়, নজরে এলো গুলঞ্চ লতার স্বর্ণালী -

সুতোর মতো জালক। মনে হলো, সৌন্দর্য আছে -

চারিদিকে, শুধু দেখার জন্যে চোখের দরকার।


কিছু সময় পর, অনেকটা নিজেকে বিস্তার -

করে প্রাচীরের দিকে উঠছিল নিজ চেষ্টায়।

অনান্য  লতানো গাছ ঢেকে গিয়েছিল তার -

সবজে রঙের ফুল আর পাতার মহিমায়।

ওপাশের বাড়ির জমি থেকে, উঠে আসা আরো -

এক রাশি গুলঞ্চের দল একই সময়ে প্রাচীর -

বেয়ে এলো। দু’পাশ থেকে এগিয়ে এসে একত্রে -

গেল মিশে। কে কোথা থেকে করেছে নিজের -

সূত্রপাত সেটা তফাৎ করা ছিল অসম্ভব।


‘প্রাচীরের উদ্দেশ্য’ নিস্তব্ধে হেরে যাওযায় আমার -

মন কে আপ্লুত করেছিল। ওদের জোট বাঁধা,

প্রমাণ করেছিল যে প্রাচীর ব্যবধান তৈরি করে -

শুধু মানুষের মাঝে। প্রকৃতির জন্যে, যেই মাটিতে,

প্রাচীর দাঁড়িয়ে, সেই মাটি প্রকৃতির মা।

মায়ের কখনও বিভাজন হয় না, হবেও না।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment