মন ও মানুষের। এমনি আমারও আছে প্রাচীর -
জীবনে ও মনে। দিনে দিনে প্রাচীর হয়ে উঠছে -
তার আকৃতির তুলনায় বৃহৎ। প্রাচীরের যেন এক -
ছড়িয়েছে গুলঞ্চ লতা শুধু ফুল ও ফল গাছের -
জায়গা হবে সেটা ন্যায়সঙ্গত নয়। তাই যারা -
‘জংলী গাছ’ আখ্যা পেল, আমি তাদেরও দিয়েছি -
স্বাধীন হওয়ার অবকাশ, দিয়েছি স্বাধীন ভূমি।
দু’ধার থেকে ক্রমশই কেঁচোর মতন মাটি কামড়ে,
বড় হচ্ছিল বেশ কিছু ফুলবিহীন লতানো গাছ।
এক সময়, নজরে এলো গুলঞ্চ লতার স্বর্ণালী -
সুতোর মতো জালক। মনে হলো, সৌন্দর্য আছে -
চারিদিকে, শুধু দেখার জন্যে চোখের দরকার।
কিছু সময় পর, অনেকটা নিজেকে বিস্তার -
করে প্রাচীরের দিকে উঠছিল নিজ চেষ্টায়।
অনান্য লতানো গাছ ঢেকে গিয়েছিল তার -
সবজে রঙের ফুল আর পাতার মহিমায়।
ওপাশের বাড়ির জমি থেকে, উঠে আসা আরো -
এক রাশি গুলঞ্চের দল একই সময়ে প্রাচীর -
বেয়ে এলো। দু’পাশ থেকে এগিয়ে এসে একত্রে -
গেল মিশে। কে কোথা থেকে করেছে নিজের -
সূত্রপাত সেটা তফাৎ করা ছিল অসম্ভব।
‘প্রাচীরের উদ্দেশ্য’ নিস্তব্ধে হেরে যাওযায় আমার -
মন কে আপ্লুত করেছিল। ওদের জোট বাঁধা,
প্রমাণ করেছিল যে প্রাচীর ব্যবধান তৈরি করে -
শুধু মানুষের মাঝে। প্রকৃতির জন্যে, যেই মাটিতে,
প্রাচীর দাঁড়িয়ে, সেই মাটি প্রকৃতির মা।
মায়ের কখনও বিভাজন হয় না, হবেও না।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment