চেনা জঙ্গলে প্রতিবার দেখি অচেনা কত পাতা।
নতুন করে হয় চেনা, নতুন করে হয় পরিচয়, যেন
তখনই, সেই মুহূর্তে ওটাই প্রথম জঙ্গল দেখা।
বাড়ির মাধবীলতা আজ অনেকটা বছর রয়েছে,
করে নিয়েছে নিজের জায়গা। ছোটবেলা থেকেই
সে বড় হচ্ছে আমারি সাথে। তবে সে অনেকটা
ধৈর্যশীল নিজের বাহুডোর বিস্তারের ক্ষেত্রে। ফুল
ফোটার থেকে তার রঙের পরিধানে যেই পরিবর্তন
আসে সেটা লক্ষণীয়।
সাদা থেকে হালকা গোলাপি এবং পরিশেষে সে
ধারণ করে তার চিরস্থায়ী লালিমার রূপ। ফুল
বদলায় নিজের রং, বদলায় নিজেকে রোজকার
দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। রৌদ্রে সাদা ফুলের রূপালী শান্ত
রূপ মেঘলা আকাশের সময়ে নিজেকে মেলে ধরে
এক অনন্য রূপে।
একে অপরের বিপরীতে সাজানো শ্যামল পত্রকের
ক্ষমতা আছে ফুলের সাঁজের সাথে পা মিলিয়ে
চলার। বৃদ্ধ পাতার কালচক্রে পিঙ্গলরুপ নিজেকে
নিঃশেষ করে ঝরে পড়ার আগে, রংবাহারি ফুলের
মাঝে সে এনে দেয় এক মিষ্টি মাধুর্য।
হলো না হয় সে ক্ষণিকের!
এমনি চেনা জঙ্গলে রয় কত অচেনা মাধবীলতার
ন্যায় অচেনা ফুল। ওরাও অপেক্ষায় থাকে আমারই
মতন পথিকের আকুল দৃষ্টির তৃষ্ণায়।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment