Friday, June 26, 2026

চুপ থেকেও বলা

দুই দশকেরও বেশি হল, আমাদের দেখা হয়েছিল,

প্রথম পরিচয় থেকে আজ অবধি সীমিত কথা ছিল

তবে ভাবের প্রকাশে ছিল প্রাচুর্যতা। ভাব প্রকাশের

ক্ষেত্রে শব্দের কখনোই টান পড়েনি আঁখির ভাষায়

বরং চুপ থেকেও একে অপরকে করা হয়েছে

তারামণ্ডলীর সমষ্টির ন্যায় অসীম ভাবের বিবরণ।

অনেকটা সময় পার করতে করতে এটা মনে হয়,

হয়তো প্রতি মুহূর্তে কিছু বলা থেকে গিয়েছিল

বাকি। মনে পড়ে বহু কথা মনের মাঝে হারিয়েছিল,

অন্য জরুরি কথা বলার জন্যে।


এটাও মনে পড়ে যে জরুরি কথাগুলো কোনো

কারণে বলা হয়নি। হয়তো তোমার সাথে আমার

সময় মেলেনি, কথা নুরি পাথরের মতো বড় শিলার

ফাঁকফোকরে মাঝে গিয়েছিল হারিয়ে। চোখের

ভাষায় হারিয়েছিল কথা। বয়সের রেলগাড়ি ছুটে

চলছে আপন গতিতে, কিন্তু কেন জানি না, কিছুটা

করে জীবনের অধ্যায় মনে হয় হিসেবের খাতায়

নেই যেমন গভীর রাতের ট্রেন সফরে পার করা

স্টেশনের কোনো হদিস নেই।


বয়সের কুঁচকে যাওয়া চর্মের ওপর সময়ের প্রলেপ 

আজও তোমাকে ছুঁতে পারেনি, তোমার হাসিটি

আজও রয়েছে শিশুসুলভ অমলিন। নদীর ওপরের

স্তর যত হয় শান্ত ততটাই সে হয় গভীর। তোমার

আঁখির কথপোকথনের কৌশল যেন এক প্রাচীন

লুপ্ত ভাষার ব্যাকরণের ভাস্কর্য। আমি আজো চলার

পথে সেই চোখের চাউনির আলোর পথ ধরে

পুরনো অন্ধকারে পার করা স্টেশনের নাম মনে

করার চেষ্টা করি।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment