Sunday, June 14, 2026

দাদু’র বাড়ি

পুরোনো বাড়ির আছে অসংখ্য গল্প, কিছু শোনা -

আর কিছু যার আমি হয়ে রয়েছি অভিন্ন অঙ্গ।

ছোটবেলার সরলতা, অন্যায় আবদার এগুলো -

হারিয়ে যায় সময়ের সাথে, সেটা বাল্যকালে জানা

থাকে না। মন ও দেহ কোনোটাই এই খোয়ানোর

জন্যে কাউকে প্রস্তুত করে না, সম্ভব ও না।


গোলাপ, স্থলপদ্ম, মাধবীলতা - সৌন্দর্য্য ও গঠন

ছাড়াও এদের পরিবেশের মাঝে দেওয়া চঞ্চলতা,

গ্রাম্য বাড়ির প্রতি আমায় চিরকাল করেছে আকৃষ্ট।

গাছগুলোর মধ্যে ছিল প্রাণ, শুধু বিজ্ঞানের দ্বারা

প্রমাণিত বলে নয় - এটা আমার বেড়ে ওঠার

সমকালীন অনুভূতি। মন বুঝতে ও মানুষ চিনতে,

এই বাড়ির ছোট বড় নানান রকম ঘটনা আমার

কাছে রয়ে গেছে শিক্ষণীয়।


জীবনের ত্রিশটা বসন্ত পার করে প্রথম হারানোর 

কালবৈশাখী ছিনিয়ে নিল আমার দাদুকে, আমার

মনের বটবৃক্ষ সেদিন নড়বড়ে হয়ে উঠেছিল। 

বিশ্বাসের ঝুরিগুলো মাটি আঁকড়েও হয়েছিল চরম

প্রতিবাদী। দাদুর হাতে জন্ম নিয়ে বড় হওয়া

গাছগুলো নিজ প্রাণবন্ত চরিত্র থেকে সরে আসে।

ফুল হারায় রং, মাধুর্য্য ও বেঁচে থাকার প্রবণতা।


পরবর্তীতে, এক দশকের আগেই দিদাও

বিদায় নেন ইহলোক থেকে, বাগান হয় নিঃস্ব।

আজ সেই বাল্যকালের গ্রাম্য বাড়িটির একাকী

বাগানের রুক্ষ প্রান্তর মনে করিয়ে দেয়, ফুল ফল

বা মানুষের বেঁচে থাকতে প্রয়োজন একটা অমর

আত্মিক ভালোবাসার ঝর্ণাধারা।  



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment