আলোর দরুন কেউ বসত না। একটা বড় কাঁচের
জানালা আমাকে দিত মৃদু আলোয় রোমন্থন করার
সুবর্ণ সুযোগ! কেউ না বসার স্থানে পেতাম অতি
লোভনীয় ও আকাঙ্ক্ষিত একাকিত্ব। ছাদ থেকে
একটা অকেজো হলদে বাল্ব ঝুলত, অনেকটা সেই
সময়ের সামাজিক ব্যবস্থার মতন!
মন্দ পরিস্থিতির এটাই ভালো দিক যে, জীবনে স্বল্প
উপাদানের মধ্যে দিয়ে মানুষকে চলতে শেখায়।
ক্লাসের ফাঁকে বিরতিতে, কিছু ক্লাসমেটের সান্নিধ্য
থেকে নিজেকে দূরে সরে থাকতে, আমি নিজেকে
লাইব্রেরিতে চালান করতাম। অভ্যেস ছিল, নিজ
গণ্ডিতে পেপার পেতে বসার। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গা
কাঁচের খিড়কি দিয়ে সূর্য কে পার হতে দেখতাম।
মেঘলা দিনে এই মনের খোরাক অধরা রয়ে যেত।
বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও কবিতার প্রতি ছিল দুর্বলতা।
লাইব্রেরিতে উপস্থিতির ওটা ছিল মূল কারণ।
একদিন হঠাৎ, ইতিহাস বিভাগের এক পরিচিত
চেহারা এসে হাজির। টেবিলের উল্টো দিকে বসে
সুজাতা মৃদু হাসলো। মনে হল, লর্ড বাইরণ-এর
কবিতা, ‘শি ওয়াক্স ইন বিউটি’ বই ত্যাগ করে উঠে
আমায় দর্শন দিল। বুঝলাম মনের ভাঙ্গা জানালার
কাঁচের ওপারে, মেঘ কেটে গিয়ে সূর্য উঠেছে।
প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬
No comments:
Post a Comment