Sunday, July 5, 2026

১০৮/বি ফিডার্স লেন (প্রথম স্পর্শ)

দুটি মনের ঠিকানা এক হলেও, তফাৎ ছিল শুধু

দুটো তলার। তিন মাসের পরিচিতি, দুজনের মধ্যে

এনেছিল এক অনন্য স্ফূর্তি। সারাদিনের অফিসের 

ঝঞ্ঝাটের পরেও, নিজেকে ভোরের আলোর মতন

তরতাজা লাগত। ভালোবাসার প্রভাবের যে অসীম

বিস্তার সেটা মন আগেই জেনে গিয়েছিল।


সকালে বেরোনোর সময় কখনোই আমরা পরিচিত

ব্যক্তির ন্যায় আলাপচারিতায় রত হতাম না। ও

দোতলার সিঁড়ি দিয়ে নামতো। আমি লিফট থাকা

সত্বেও চারতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতাম। যেই

রেলিংয়ে ভর দিয়ে ও নামতো সেটা ছুঁয়ে নামা ছিল

ভোরের শিউলির ঘ্রাণে নিজেকে বিভোর করা। ওর

বাড়ির লোক বা প্রতিবেশী কেউ কিছুই জানত না।


আমার বেরোনোর আগে ও বেরোত। গলির বাঁক

থেকে ট্যাক্সিতে উঠতাম। বুঝতাম যে, এই অপেক্ষা

এক চাপা উত্তেজনা যা ভালোবাসার উষ্ণতাকে

শিখরের দিকে নিয়ে যায়। আঁখির মাধুরী জানে 

অপ্রকাশিতব্য বার্তা সঞ্চালন করে মনের মানুষের

কাছে পৌঁছে দেওয়া। স্ট্যান্ডে পৌঁছে একসাথে

ট্যাক্সিতে উঠতাম। সকালের প্রথম হাসির আদান

প্রদান তখনই হতো। একদিন ট্যাক্সিতে বসার পর

নিজের হাত আমার হাতে রাখলো। তাকাতেই, মৃদু

হেসে, আমার আঙুলের মাঝে নিজের আঙুল চেপে

ধরে। আবদ্ধ মুঠো টেনে ওর কোলের ওপর রাখে।

সেদিনও সুজাতা মুখে কিছুই বলেনি। 



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment