Sunday, July 5, 2026

১০৮/বি ফিডার্স লেন (প্রথম দেখা)

মফঃস্বলে বড় হয়ে মহানগরী দেখেছি প্রথম যখন

আমি সরকারি চাকরি পাই। সুজাতাকে তখন প্রথম

দেখি একই অফিসের অন্য দপ্তরে। অজস্র মানুষের

ভিড়ে এক জোড়া চোখ যেন তারা করে বেড়াত।


অফিসে খাওয়ার বিরতিতেই দেখা হতো ক্যান্টিনে।

শুরুর দিকে ছিল ভালোলাগার তাকানো, বলা চলে

একতরফা আমারই মনের চাহিদা। সীমিত হাসির

আদান প্রদান হয়েছে কয়েকবার। বুঝি যৌবনের

হৃদস্পন্দন হয় একটু ভিন্ন। বুকে ধিকধিক করা

চঞ্চলতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে মন চায় না, ভালোই

তো লাগে, হোক না!


বাড়ি ফেরার সময়ে একদিন বাস না পেয়ে বাধ্য 

হয়ে ট্যাক্সিতে উঠব ভাবছি, তখনই পাশ থেকে

সুজাতা বলল, ‘চলুন একসাথে যাওয়া যাক’।

স্বভাবতই এক মুহূর্ত নষ্ট না করে উঠলাম ট্যাক্সিতে।

এমনি কিছুদিন, দুজনে ট্যাক্সিতে ফিরতাম, সুজাতা

অফিসে তেমন কোনো কথা না বললেও দেখতাম

স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকত আমার অপেক্ষায়। সুজাতা

প্রস্তাব দেয় ওর বিল্ডিংয়ের চার তলায় ঘর আছে।

আমাকে ভাড়া নিতে বলে। বললাম, ‘কেন?’। কিছু

না বলে, মুখে আলতো হাসি ফুটিয়ে ট্যাক্সির বাইরে

তাকিয়ে থাকলো। সপ্তাহখানেক পর আমি পেলাম

স্থায়ী আবাসন, হৃদয় পেল তার নিজ ঠিকানা।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment