Sunday, July 5, 2026

ক্লাব ঘর

বিস্তৃত ঘেরাও করা মাঠের পশ্চিমে আছে একটি

পুরোনো ক্লাব ঘর। টিনের চাল, ভাজ করা পাল্লা

যেমন পুরোনো দোকানপাটে আগে দেখা যেত।

চালে অনেক অংশে মর্চের দাগ যদিও কিছু বছর

অন্তর তার দেয়ালগুলো রঙ করা হতো।


অবসরপ্রাপ্ত মানুষ সন্ধ্যায় আসেন তাস খেলতে।

অনেকেই ছিল আমার পরিচিত, তবে অমল জেঠু

আমার কাছে মাঝে মধ্যে আসতেন আড্ডা দিতে।

উনি বাজারে যাওয়ার পথে আমার সাথে দেখা

করে যেতেন; একসাথে বসে কফি খেতাম, চলত

আলোচনা প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও নবীনের বিপ্লবী

চিন্তাধারার এক অনবদ্য যুগলবন্দি।


তিন দশকের তফাৎ রেখেও এক টেবিলে বসে ভিন্ন

প্রকার বিষয়ের ওপর হতো আলোচনা। উভয়ই 

নিতাম এক অপরের থেকে শিক্ষণীয় মূল বস্তু। উনি

আমার জন্যে বাড়ির গাছের নিমপাতা আনতেন।

ওটা আমার খুবই প্রিয় খাদ্যবস্তু। ইতিমধ্যে, কিছুটা

সময় ব্যতীত হয়েছিল, আমিও কাজে ছিলাম লিপ্ত।

অনেকদিন হয়েছিল ওনার খোঁজ নেওয়া হয়নি।


অকস্মাৎ একদিন সকালে উনি হাজির। সেদিন

আমি আপ্লুত হতে পারিনি। ওনার দেহের কাঠামো

ভঙ্গুর দশার চরমে। বুঝলাম, মন ভেঙেছে দেহের

চেয়ে অধিক মাত্রায়। নিম পাতা এনেছিলেন, তবে 

কফি খেলেন না, আড্ডা হলো না। বললেন, ‘আর

হয়তো আসা হবে না’। দু’মাস পর উনি বিদায়

নিলেন। ক্লাব ঘরে তাসের আসরে অন্য এক ব্যক্তি

খেলেন। জগৎ চলছে নিজ ধারায়, শুধু কফি’র

আড্ডাটা আর কখনো হবে না।



প্রসেনজিৎ দাস © ১৯৯৭-২০২৬


No comments:

Post a Comment